ফাইল ছবি

তিরুবনন্তপুরম: ‘দেশ থেকে বামপন্থা শেষ হয়ে গেলে বিরাট সর্বনাশ হয়ে যাবে। কোনও ভাবেই তা হতে দেওয়া যাবে না।’

সিপিএম বা কোনও বাম দলের নেতা নয়। এই মন্তব্য করেছেন দেশের সর্বাধিক প্রাচীন রাজনৈতিক দল ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের নেতা জয়রাম রমেশ।

আরও পড়ুন- বুদ্ধ নন তথাগত বাম শাসনের অবসানের নেপথ্যে

পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ ৩৪ বছর শাসন করেছে বামফ্রন্ট। ২০১১ সালে সেই শাসনের অবসান ঘটে। সেই সময় অবশ্য পূবের রাজ্য ত্রিপুরায় মানিক সরকারের নেতৃত্বে রাজ করছিল বামফ্রন্ট সরকার। দীর্ঘ ২৫ বছর পরে গত শনিবার সেই সরকারেরও পতন ঘটেছে।

আরও পড়ুন- ‘সিপিএমের পরাজয়ে সবথেকে বেশি কষ্ট পেয়েছেন দিদিমণি’

ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে সিকি শতকের বামফ্রন্ট সরকারের পরাজয়ের পরিপ্রেক্ষিতেই উক্ত মন্তব্য করেছেন কংগ্রেস নেতা জয়রাম। ত্রিপুরায় এবার বিজেপি-আইপিএফটি জোট ৪৩টি আসনে জয় পেয়েছে। বিজেপি একাই পেয়েছে ৩৫টি আসন। গতবার ৫০টি আসন পেলেও, এবার বামফ্রন্টের আসন কমে হয়েছে মাত্র ১৫।

আরও পড়ুন- মমতাকে ‘বেইমান’ বলে তোপ মুকুলের

এই মুহূর্তে দক্ষিণ ভারতের কেরলেই শুধুমাত্র রয়েছে বাম সরকার। রবিবার ওই রাজ্যে এই অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ। সেখানেই দেশে বামপন্থার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন জয়রাম।

জয়রাম রমেশ

ভারতের মতো গণতান্ত্রিক দেশে বামদের মতো দলগুলি ক্রমশ অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ছে। যা খুবই চিন্তার বিষয় বলে দাবি করেছেন জয়রাম। তাঁর কথায়, “ভারতে বামপন্থীদের শক্তিশালী হতেই হবে। বামপন্থা শেষ হয়ে গেলে ভারতের সর্বনাশ হবে।”

আরও পড়ুন- অবশেষে পক্ককেশদের বিদায় জানাচ্ছে সিপিএম

২০০৪ সালে বামেদের সমর্থনের উপর ভিত্তি করেই কেন্দ্রে সরকার গড়েছিল কংগ্রেস। ২০১৬ সালে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে জোট বেঁধে লড়াই করেছিল বাম-কংগ্রেস। কিন্তু, জাতীয় রাজনীতিতে এই দুই দলের বিরোধ দীর্ঘদিনের। এই বিষয়টিকে মেনে নিয়েও বামপন্থার প্রশংসা করেছেন কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ। তাঁর মতে, “রাজনৈতিকভাবে আমরা বামেদের বিরোধী। কিন্তু আমিই সবার আগে বলছি, ভারতে বামপন্থার অবসান হতে দেওয়া যাবে না।” একইসঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, “মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও সমাজ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বামপন্থীদেরও মানসিকতা বদলাতে হবে।”