নয়াদিল্লি: নিজামুদ্দিনের ধর্মীয় সমাবেশে যোগ দেওয়ার ঘটনা সম্পূর্ণ গোপন করেছিলেন দিল্লির এক প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা। পুলিশ ফোনের কল রেকর্ড ঘেঁটে এই তথ্য জানতে পারে। করোনা টেস্টে ওই প্রাক্তন কংগ্রেস কাউন্সিলরের পজিটিভ রিপোর্ট মেলে।

করোনার সংক্রমণ ছড়িয়েছে প্রাক্তন কাউন্সিলরের স্ত্রী-মেয়ের শরীরেও। আপাতত দক্ষিণ দিল্লিতে ওই প্রাক্তন কংগ্রেস নেতার বাড়ি-সহ গোটা এলাকা সিল করেছে পুলিশ। প্রাক্তন কাউন্সিলর ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা এলাকার আর কার সংস্পর্শে এসেছিলেন তাঁদেরকে এখন খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছেন পুলিশ ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।

পুলিশের কাছে জানাননি যে তিনিও নিজামুদ্দিনের ধর্মীয় সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন। পরে ফোনের কল রেকর্ড ধরে দিল্লি পুলিশ প্রাক্তন কংগ্রেস কাউন্সিলরকে সনাক্ত করে। বৃহস্পতিবার রাতে ওই কাউন্সিলর, তাঁর স্ত্রী এবং মেয়ের করোনাভাইরাস সংক্রমণের রিপোর্ট আসে। তিনজনকেই ভর্তি করা হয়েছে আম্বেদকর হাসপাতালে।

দিল্লির নিজামুদ্দিনের ধর্মীয় সমাবেশের পর থেকেই দেশে হু হু করে বাড়ছে মারণ করোনার সংক্রমণ। দিল্লির এই এলাকাই এখন দেশের করোনার মূল হটস্পট। তবলিঘির জামাতের অনুষ্ঠানে গিয়েও অনেকেই তা পুলিশকে জানাচ্ছেন না বলে অভিযোগ ওঠে আগেই।

সেই কারণেই দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের একটি বিশেষ দল ফোন কলের তথ্য জোগাড় করে নিজামুদ্দিনের ধর্মীয় সমাবেশে যোগ দেওয়া ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য জোগাড়ের চেষ্টা চালাচ্ছেন। সেই সূত্র ধরেই প্রাক্তন কংগ্রেস নেতাকে চিহ্নিত করে পুলিশ।

ইতিমধ্যেই দক্ষিণ দিল্লির প্রাক্তন ওই কংগ্রেস নেতার বাড়ি ও তার আশপাশের গোটা এলাকা সিল করে দিয়েছে পুলিশ। এই তিনজনের থেকে আরও কাদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ায় এখন সেটাই খতিয়ে দেখতে চাইছে পুলিশ। প্রশাসনের আশঙ্কা, এলাকাটি ঘনবসতিপূর্ণ ও ঘিঞ্জি। ওই এলাকায় সংক্রমিত তিনজনের থেকে অনেকের শরীরেই করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

দিল্লির ৩০টি এলাকাকে হটস্পট চিহ্নিত করে তা সিল করেছে প্রশাসন। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে মোট করোনা আক্রান্তের ৩০ শতাংশের মানুষের সঙ্গেই নিজামুদ্দিন যোগ রয়েছে। করোনায় দেশে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৬,৪০০ ছাড়িয়েছে। মারণ ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ১৯৯।

যে কোনও মুহূর্তেই ২০০-এর ঘরে গিয়ে উঠতে পারে এই সংখ্যা। স্বাস্থ্যমন্ত্রক সূত্রে খবর, দেশে মোট করোনা আক্রান্ত ৬৪১২ জন। এদের মধ্যে ৫০৩ জনকে ছুটি দেওয়া হয়েছে বা তাঁরা সেরে উঠেছেন। মারণ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এখনও পর্যন্ত গোটা দেশে ১৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।