মালদহ: রাত পোহালেই মালদহে লোকসভা নির্বাচন। সেই ভোটদান পর্বে দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্যর আশঙ্কা করছে কংগ্রেস ও সিপিএম। তাই অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে জেলা পুলিশের দ্বারস্থ হলেন দুই মালদহ কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থীরা।

সোমবার দুপুরে এই মর্মে জেলার নবনিযুক্ত পুলিশ সুপারের কাছে একটি দাবি পত্র তুলে দেন উত্তর মালদহর কংগ্রেস প্রার্থী ঈসা খান চৌধুরী এবং দক্ষিণ মালদার কংগ্রেস প্রার্থী আবু হাসেম খান চৌধুরী। তাদের দাবি, জেলার বিভিন্ন জায়গায় বিশেষ করে উত্তর মালদহর রতুয়া ১ ও ২ নম্বর এলাকা, চাঁচল, সামসি দক্ষিণ মালদহর কালিয়াচক সুজাপুর বৈষ্ণবনগর মোথাবাড়িতে দুষ্কৃতীরা রয়েছে তাদের যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনের আগেই গ্রেফতার করতে হবে।

উত্তর মালদহ কংগ্রেস প্রার্থী ঈসা খান চৌধুরী বলেন, ‘‘আমরা অনেক দিন ধরে দুষ্কৃতীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে আসছি। আগের পুলিশ সুপার আমাদের সেই দাবি মানেনি। এই পুলিশ সুপার সদ্য কাজে যোগ দিলেও ভোট দান পর্ব শুরু হওয়ার এখনও বেশ কয় ঘণ্টা বাকি রয়েছে। আমাদের দাবি মেনে দুষ্কৃতীদের গ্রেফতার করা হলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট করা সম্ভব।’’

একই দাবিতে সরব হয়েছে জেলা সিপিএম। দুষ্কৃতীদের গ্রেফতারের দাবিতে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁরা। সিপিএমের জেলা সম্পাদক অমর মিত্র বলেন, ‘‘আমরা অনেক দিন ধরে এই দাবি করে আসছি। বিশেষ করে রতুয়া এলাকায় তৃণমূলের ছত্রছায়ায় যে দুষ্কৃতীরা আছে তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। নাহলে পঞ্চায়েত ভোটের মতই সেই এলাকাগুলিতে ভোট লুট হবে।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘শুধু তাই নয় আমাদের কাছে অভিযোগ আসছে যে সেখানকার তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষদের এপিক কার্ড নিজেদের হেফাজতে নিয়ে নিয়েছে। যাতে আগামীকাল তাদের দলের লোকেরা তাদের ভোট দিতে পারে। আমরা এব্যাপারটাও নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি। কমিশন কোন পদক্ষেপ না নিলে সেই এলাকাগুলোতে ফ্রি এন্ড ফেয়ার ভোট করা সম্ভব নয়।’’

জেলা তৃণমূলের কার্যকারী সভাপতি বাবলা সরকারের মতে, কংগ্রেস এবং সিপিএম দুটো দলেরই পায়ের তলায় কোন মাটি নেই। জন ভিত্তি ও শেষ হয়ে গিয়েছে। ওরা ভয় পেয়েই এসব অভিযোগ করছে। কোথাও কোনও এপিক কার্ড নেওয়া হয়নি। আমাদের দলে দুষ্কৃতীদের কোন জায়গা নেই। আমরা পুলিশ প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সব রকম সহায়তায় সব সময় পাশে আছি।

জেলার নবনিযুক্ত পুলিশ সুপার অজয় প্রসাদের এ ব্যাপারে কিছু বলতে চাননি৷ কিন্তু পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কংগ্রেস এবং সিপিএম-এর অভিযোগ যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছে নির্বাচন কমিশন। এ ব্যাপারে বিচার বিবেচনা করে পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।