দেবময় ঘোষ, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ থেকে কংগ্রেসের রাজ্যসভার প্রার্থী অভিষেক মনু সিংভির মনোনয়নপত্রকে ‘ভুলে ভরা’বলছে সিপিএম৷ কংগ্রেস ও সিপিএমের দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রায় ভুলতে বসা বাঙালি বোধহয় অনেকদিন পর সিপিএমের মুখে কংগ্রেসের সমালোচনা শুনতে পেল৷ অভিষেক মনু সিংভির মনোনয়নকে বাতিলের দাবি জানিয়ে সিপিএম দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি লিখেছে৷

এদিকে, সমালোচনার জন্যই সিপিএম সমালোচনা করছে বলে জানিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী৷ সব মিলিয়ে রাজ্যসভার নির্বাচনের ঠিক একদিন আগেই অভিষেক মনু সিংভির মনোনয়ন প্রশ্নে সিপিএম-কংগ্রেসের বিরোধে সরগরম রাজ্য রাজনীতি৷

বুধবার বিকেলে রাজ্যসভায় বামফ্রন্টের প্রার্থী, প্রাক্তন সিপিএম বিধায়ক রবীন দেব দাবি করেন, অভিষেক মনু সিংভি মনোনয়নে ‘অসংখ্য’ ভুল রয়েছে৷ এমনকী বয়স পর্যন্ত ভুল লেখা হয়েছে৷ রিটার্নিং অফিসারকে অভিযোগ জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি৷ শেষ পর্যন্ত দিল্লিতে কমিশনকে অভিযোগ জানিয়ে বলতে হয়েছে, অভিষেক মনু সিংভির মনোনয়ন বাতিল করা উচিত৷

তিনি বলেন, ‘‘এত ভুল কোনও মনোনয়নে থাকতে পারে না৷ তা বাতিল হওয়া উচিত৷ ফর্ম-২৬ অ্যাফিডাভিটে ওভাররাইটিং রয়েছে অনেক জায়গায়৷ অনেক জায়গায় নট অ্যাপ্লিকেবল না লিখে ‘এন এ’ লেখা হয়েছে৷ ১৫ মার্চ আমরা অভিযোগ জানিয়েছিলাম৷’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘২০০৬-এ অভিষেক মনু সিংভি রাজস্থান থেকে প্রার্থী হিসেবে যে মনোনয়ন পেশ করেছিলেন, সেখানে তাঁর বয়স ছিল ৪৩ বছর৷ ২০১৮ সালে এসে তাঁর বয়স কীভাবে ৫৯ হয়? এর ব্যাখ্যা কংগ্রেসই দিতে পারবে৷’’

শুক্রবার রাজ্যসভার নির্বাচনে ছ’জন লড়ছেন৷ চার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীর জয় নিশ্চিত৷ আসন রয়েছে পাঁচটি৷ পঞ্চম প্রার্থী হিসেবে সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় কংগ্রেস প্রার্থী অভিষেক মনু সিংভির যাওয়া প্রায় নিশ্চিত৷ কারণ, শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে সমর্থন জানাবে৷

সেক্ষেত্রে বাম প্রার্থী রবীন দেবের প্রায় কোনও সম্ভাবনা নেই বললেই চলে৷ ড্রাফট পলিটিক্যাল রিজলিউশন নিয়ে সীতারাম ইয়েচুরি-প্রকাশ কারাতের বিরোধ এখন তুঙ্গে৷ কংগ্রেসকে সমর্থন করা নিয়ে দুই নেতার পলিটিক্যাল লাইন দুই দিকে ভাগাভাগি হয়ে গিয়েছে৷ এই পরিস্থিতিতে রাজ্যসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থন আদায় করেছে কংগ্রেস৷ বিরোধিতার লাইনে গিয়ে সিপিএমও অভিষেক মনু সিংভির মনোনয়ন বাতিলের আবেদন করেছে৷

অধীররঞ্জন চৌধুরী অবশ্য বলছেন, ‘‘আগে মনোনয়ন বাতিল হোক৷ তার পর চিন্তা করব৷ সিপিএম বিরোধিতা করতে চায় করুক৷ বিষয়টা নির্বাচন কমিশনের৷ কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে৷’’ অন্যদিকে কংগ্রেস নেতা ওমপ্রকাশ মিশ্রর প্রশ্ন, ‘‘অভিষেক মনু সিংভির মনোনয়ন বাতিন হয়ে যেত৷ তা তো হয়নি৷ আর রবীনবাবু নির্বাচনের একদিন আগে এই কথা বলেছেন কেন?’’

কিন্তু জোট রাজনীতিতে কি দুই দল একটু দূরে সরে গেল? ওমপ্রকাশ মিশ্রর বক্তব্য, ‘‘জোটের বিষয়টা আলাদা৷ বিজেপি-তৃণমূল মানুষের সর্বনাশ করছে৷ তার বিরুদ্ধে জোট প্রয়োজন৷ বৃহত্তর মঞ্চ থেকে এই লড়াই লড়তে হবে৷ ওই বিষয়টির সঙ্গে রাজ্যসভার নির্বাচনকে এক করে দেখা চলবে না৷’’

বাম-কং নেতারা তাহলে কী বলছেন? অনেকেই বলছেন, ‘‘বন্ধুত্ব মজবুত হলে, রাজ্যসভার মনোনয়নের এই বিষয়টি তো ছোট্ট ঘটনা৷ বন্ধুত্বে আঁচড় পড়বে না’’