স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: পূর্ব বর্ধমান জেলার বর্ধমান পূর্ব লোকসভা আসন এলাকায় বেপরোয়াভাবে চলছে বালি ও মাটি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য। আর এই দৌরাত্ম্যে মধ্যমণি রাজ্যের শাসকদলের নেতারা। এমনটাই অভিযোগ কংগ্রেস প্রার্থীর।

কংগ্রেস প্রার্থী সিদ্ধার্থ মজুমদার বলেন, তিনি সাংসদ হলে এই দৌরাত্ম্য বন্ধের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন।

এদিন সিদ্ধার্থবাবু অভিযোগ করেছেন, বর্ধমান পূর্ব লোকসভা কেন্দ্রের ভাগীরথীর ভাঙন সেখানকার হাজার হাজার মানুষকে পথে বসিয়ে দিয়েছেন। এতদিন কেন্দ্রের গঙ্গার পাড় বাঁধানোর টাকা এসেছে। কিন্তু কাজ তেমন হয়নি। সেই টাকা নেতারা আত্মসাত করেছেন। ফলে ছিন্নমূল হয়ে যাওয়া মানুষের অসহায়তা আরও বেড়েছে। চলতি লোকসভা নির্বাচনে প্রচারে বেড়িয়ে তিনি এই সব মানুষের দুর্দশা দেখেছেন।

নির্বাচিত হলে তিনি সুপ্রিম কোর্টে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করে কেন্দ্রের টাকা কোথায় গেল তার জবাব চাইবেন বলে জানিয়েছেন। এর পাশাপাশি কালনা মহকুমার একটি বড় অংশে রয়েছে তাঁতি পরিবার। কিন্তু রাজ্য সরকার কয়েকটি বিপণন কেন্দ্র খুলে দিলেও তাঁতির তৈরি পণ্যকে বাণিজ্য করার মত কোনেও পরিকাঠামোই তৈরি করেনি।

এদিন সিদ্ধার্থবাবু জানিয়েছেন, এই কেন্দ্রের চাষীদের কষ্ট চরমে উঠেছে। তৃণমূলের নেতারা ফড়ে হিসাবে চাষীদের মাল সস্তায় কিনে বিক্রি করছেন। আর চাষীরাই খেতে পাচ্ছেন না। তিনি এই ফড়েরাজকে খতম করতে চান। আর তা করা গেলেই এই কেন্দ্রের মানুষের ৪০ শতাংশ সমস্যা মিটে যাবে বলে মনে করেন তিনি।

এদিন সিদ্ধার্থবাবু অভিযোগ করেছেন, বিজেপি – তৃণমূল গোপন সমঝোতা হয়ে গেছে। পূর্ব বর্ধমান জেলায় তৃণমূল বিজেপিকে বর্ধমান দুর্গাপুর লোকসভা আসন ছেড়ে দিয়েছে আর বিজেপি তৃণমূলকে বর্ধমান পূর্ব লোকসভা আসন ছেড়ে দিয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচনী প্রচারের জন্য রোড শো কিংবা পথসভার জন্য আবেদন করা হলে তাদের জানানো হচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস আগে থেকেই বুকিং করে রেখেছে তাই অনুমতি দেওয়া যাবে না। আবার কখনও বলা হচ্ছে সার্ভার ডাউন তাই অনুমতি দেওয়া যাচ্ছে না।

সিদ্ধার্থবাবু জানিয়েছেন, প্রশাসনের এই ভূমিকা নিয়ে বুধবারই তাঁরা লিখিতভাবে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানাতে চলেছেন। তিনি এদিন জানিয়েছেন, প্রচারে বেরিয়ে তিনি মন্তেশ্বর, জামালপুর সহ বেশ কয়েকটি জায়গায় সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়েছেন, জোর করে তৃণমূল, বিজেপির দেওয়াল লিখন করা হয়েছে তাঁদের অনুমতি ছাড়াই। নিজের জেতার ব্যাপারে সম্পূর্ণ আশাবাদী কংগ্রেস প্রার্থী সিদ্ধার্থ।