স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদনে সাড়া দিয়ে রাজ্যের ত্রাণ সাংসদ তহবিল থেকে ৩০ লক্ষ টাকা দিলেন কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্য। করোনা মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই বাম, বিজেপি ও তৃণমূল যুব কংগ্রেসের পক্ষ থেকে রাজ্যকে আর্থিক সহায়তা করা হয়েছে। করোনা মোকাবিলায় বাংলার জন্য আগেই ২০০ কোটির আপৎকালীন ত্রাণ তহবিল গঠন করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই তহবিল যথেষ্ট নয় বলে বুধবার জানান মুখ্যমন্ত্রী।

পাশাপাশি ওই তহবিলে সাহায্যের জন্য এ বার সাধারণের কাছে আবেদন জানালেন তিনি। জিনিসপত্রের পাশাপাশি আর্থিক সাহায্যের জন্যও আহ্বান জানালেন সকলের কাছে। করোনা পরিস্থিতি নিয়ে এ দিন দুপুরে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি জানান, রাজ্য ইতিমধ্যেই আপৎকালীন ত্রাণ তহবিলে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

এ ছাড়াও, ৪ লক্ষ বিশেষ পোশাক, ২ লক্ষ সার্জিক্যাল মাস্ক, ২০ হাজার আইআর থার্মোমিটার, ৩০০ ভেন্টিলেটর এবং ৩টি ইসিএও মেশিনের কেনার অর্ডার দেওয়া হয়েছে। এ দিন মুখ্যমন্ত্রী আর্থিক সাহায্যের জন্য একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর ঘোষণা করেছেন। পাশাপাশি, রাজ্যের আমলা সঞ্জয় বনশলের মোবাইল নম্বর দিয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছেন জিনিসপত্র দিয়ে সাহায্যের জন্য। নবান্ন জানিয়েছে, এই তহবিলের দায়িত্বে থাকবে অর্থ দপ্তর। এই দপ্তরের এক যুগ্মসচিব পদমর্যাদার এক কর্তাকে নোডাল অফিসার করা হয়েছে।

যে কোনও ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, ট্রাস্ট, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এই তহবিলে অর্থ বরাদ্দ করতে পারবে। মুখ্যসচিবের নেতৃত্ব চার সদস্যের কমিটি থাকবে এই তহবিল পরিচালনার দায়িত্বে। কমিটির বাকি তিন সদস্য হলেন: অর্থ, স্বরাষ্ট্র ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের সচিবরা। তহবিলে জিনিসপত্র দিতে চাইলে যোগাযোগ করতে হবে স্বাস্থ্য দফতরের সচিব সঞ্জয় বনসলের সঙ্গে।

তাঁর ফোন নম্বর- ৯০৫১০২২০০০, ই-মেল wbsacs@gmail.com। তহবিলে টাকা দিতে হলে নগদে নয়- চেক, ব্যাঙ্ক ড্রাফ্‌ট, অনলাইনে জমা করা যাবে। সেই জন্য অর্থ দফতরের যুগ্ম সচিব খালিদ এ আনোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরই যুব তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এক কোটি টাকা রাজ্য সরকারকে দিয়েছে। তবে এই রিলিফ ফান্ডের ঘোষণার আগেই বাম বিধায়করা নিজেদের তহবিল থেকে দশ লক্ষ টাকা এবং বিজেপি সাংসদরা কেউ পঞ্চাশ হাজার, কেউ এক কোটি টাকা দিয়েছেন।