শিবপ্রিয় দাশগুপ্ত: রাজ্যে নির্বাচনের আগে এক রকম রাজনৈতিক জোটের আবহ চলছে। নির্বাচনের পর যে সেই জোটের আবহ যে বদলে যাবে না সেটা কেউ হলফ করে বলতে পারছেন না। কংগ্রেস, বাম সবারই একটাই বক্তব্য, “রাজ্য থেকে তৃণমূলকে অপসারিত করতে হবে। আর বিজেপিকে রুখতে হবে।”

তবে কংগ্রেসের প্রবীণ সাংসদ ও নেতা আবু হাসেম খান চৌধুরী স্পষ্ট জানিয়েছেন, “প্রয়োজনে বিজেপিকে রুখতে নির্বাচনের পর কংগ্রেস তৃণমূলকে সমর্থন করবে, যদি তৃণমূূল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায়। কেন না বিজেপির মতো সাম্প্রদায়িক শক্তিকে না হলে রোখা যাবে না।”

এদিকে সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির এক সদস্যকে আবু হাসেম খান চৌধুরীর এই বক্তব্য প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনিও সরাসরি আবু হাসেম খান চৌধুরীর বক্তব্য খারিজ করেননি। তিনি বলেছেন, “আমরাই একক শক্তিতে সংযুক্ত মোর্চা রাজ্যে সরকার গঠন করবো। এটা এই মুহূর্তে আমাদের বক্তব্য। তবে নির্বাচনের পর পরিস্থিতি কী দাঁড়ায় সেদিকে আমরা নজর রাখছি। কেননা সাম্প্রদায়িক বিজেপিকে যে কোনও মূল্যে রুখতেই হবে।”

সিপিএমের এই নেতা তাঁর কথায় বুঝিয়ে দেন, এই রাজ্যে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে যদি দেখা যায় তৃণমূল এককভাবে সরকার গড়তে পারছে না, তখন কংগ্রেসস তৃণমূলকে সমর্থন করে সরকারে গেলে বামেরাও তখন সেই সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থন করবে। না হলে রাজ্যে যদি বিজেপি বিধায়ক ভাঙিয়ে সরকার গঠন করে ফেলে এবং কংগ্রেস ও বামেরা সরকার গঠনের ক্ষেত্রে তৃণমূলকে সমর্থন না দেয় তা হলে রাজ্যে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে ক্ষমতায় আনার দায় কংগ্রেস ও বাম উভয়ের ওপরই পড়বে।

অতীতে কংগ্রেস ২০১১ সালে তৃণমূলকে সঙ্গে নিয়ে রাজ্যে জোট করে বামফ্রন্টকে গদিচ্যুত করেছিল। তারপর যদিও সেই জোট সরকার থেকে কংগ্রেস সাড়ে চার মাসেই বেড়িয়ে যায়। তার পর তৃণমূল একক ভাবেই সরকার পরিচালনা ও দল ভাঙানোর রাজনীতি শুরু করে। কংগ্রেসের সেদিক থেকে তৃণমূলের ওপর অসন্তোষ রয়েছে। কিন্তু কংগ্রেস বামেদের সঙ্গে জোট করলেও ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের সঙ্গে জোটে যায়নি।

কাজেই নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতিতে বিজেপিকে রুখতে দিল্লি সোনিয়া গান্ধী যদি প্রদেশ কংগ্রেসকে নির্দেশ দেয় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যদি তখন সোনিয়া গান্ধীর এই নিয়ে সমঝোতা হয়, তাহলে রাজ্যে বিজেপিকে রুখতে কংগ্রেসের তৃণমূলকে ম্যাজিক নাম্বার ১৪৮ এর ঘাাটতি মেটাতে সমর্থন করতেই হবে।

আসলে রাজনীতি সম্ভাব্যতার খেলা। তাই তৃণমূল ম্যাজিক নাম্বার ১৪৮টি আসন না পেলে তখন কংগ্রেস ও বামেরা বিজেপিকে রুখতে যে মমতাকে সমর্থন না দিয়ে নিজেদের কাঁধে বিজেপিকে রাজ্যে ক্ষমতায় আনার দায় তুলে নিতে চাইবে না সেটাই স্বাভাবিক ঘটনা। তবে এই পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে ২ মে। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর। তবে সেই পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রস্তুতি যে চলছে না, তা বললেও অত্যুক্তি হবে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.