স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: অনেক চেষ্টা করেও লোকসভা ভোটে সিপিএম-কংগ্রেস একসঙ্গে লড়তে পারেনি। যার ফল ভুগতে হয়েছে দু পক্ষকেই। তাই অস্তিত্ব টিকিয়ে লড়াইয়ে এই দুই দলই 20’র নির্বাচনে একে অপরের হাত ধরতে চলেছে। মঙ্গলবার কলকাতা পুরসভা অভিযানে গিয়ে প্রদেশ সভাপতি সোমেন মিত্র বলেন, আগামী কলকাতা পৌরসভা নির্বাচনে বাম দলগুলির সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে কথা চলছে। ইতিমধ্যেই যৌথভাবে শাসকের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছে বাম-কংগ্রেস।

কাটমানি সহ সাতদফা ইস্যুতে এদিন সোমেন মিত্রর নেতৃত্বে কলকাতা কর্পোরেশন ঘেরাও করে অবস্থান বিক্ষোভ দেখান কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকরা। প্রদেশ সভাপতি সোমেন মিত্র বলেন, ঐতিহ্যবাহী কলকাতা কর্পোরেশন আজ দুর্নীতিতে ডুবে আছে।’কাটমানি’র রাজত্বের কোপ থেকে এখন কলকাতা কর্পোরেশনও রেহাই পাচ্ছে না। প্রমোটার রাজ- সিন্ডিকেট রাজের সঙ্গে শাসক তৃণমূলের অশুভ আঁতাতের ফলে নাগরিকদের প্রাণ ওষ্ঠাগত হচ্ছে। ১০০ দিনের কাজের শ্রমিকদের প্রাপ্য মজুরি কিম্বা অস্থায়ী কর্মচারীদের বেতন থেকেও নির্লজ্জের মতো কাটমানির ভাগ বসানো হচ্ছে।

বস্তি উন্নয়নের টাকা নয়ছয় হচ্ছে, কলকাতার বস্তিগুলো ক্রমশ বসবাসের অযোগ্য আজ। শাসক তৃণমূলের মদতে জলা জমির ভরাট চলছে বেআইনি ভাবে।মশা বাহিত রোগের মোকাবিলায় আজ কলকাতা কর্পোরেশন কতৃপক্ষ চূড়ান্ত ভাবে ব্যর্থ। তিনি আরও বলেন, কর্পোরেশনের হাজার হাজার শূন্য পদে দীর্ঘ দিন কোনো নিয়োগ নেই, ফলতঃ কর্মসংস্কৃতিও আজ বিপন্ন।এই চরম নৈরাজ্যের প্রতিবাদে, কলকাতা কর্পোরেশনের হৃতগৌরব পুনরুদ্ধারের লক্ষে আজ আমরা এই কর্মসূচী নিয়েছি।

এরপরই তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কথায় কথায় শ্বেত পত্রের দাবি করতেন।আজ আপনার সাহস থাকলে কলকাতা কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযোগগুলির জবাব একটি শ্বেতপত্রে দিন। কলকাতা করপোরেশনের ওয়েবসাইট-এ গ্রিভান্স মেণুতে সাবমিট বাটন-ই অকেজো। নাগরিকরা তাদের অভিযোগ জানাবে কোথায়? পুরসভা নির্বাচনের আগে দলীয় সংগঠনকে চাঙ্গা করতে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি কয়েকটি আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন এদিন। যেমন, কলকাতা জেলা কংগ্রেসকে প্রত্যেকটি বরো অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখাবে। সেপ্টেম্বর মাসে ফের ধর্মতলায় প্রদেশ কংগ্রেসের জনসভা হবে।