স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস কর্মী টিয়ারুল আবুল কালামের মৃত্যুর ঘটনার পর দিল্লির নির্বাচন কমিশনে গিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন প্রদেশ কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য৷তিনি বলেন, “আমরা জানতাম যে ওখানে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে৷ মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক, পুলিশ সুপারকে সেকথা আমারা জানিয়েছি৷ নির্বাচন কমিশনকেও বারবার আমরা এই একই কথা জানিয়েছি৷কিন্তু নির্বাচন কমিশন যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি৷আমরা সবসময় এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহলদারির কথা বলেছিলাম৷ কিন্তু সেই টহলদারি হয়নি৷ যদি এদিন বাহিনীর টহলদারি হত তাহলে বুথের বাইরে কারোর এভাবে মৃত্যু হত না৷ ঠিকমতো দায়িত্ব পালন না করে এখন তারা দায় এড়াচ্ছে৷”

নিহত কংগ্রেস কর্মীর মৃত্যুর প্রতিবাদে এদিন বিকেল সাড়ে চারটের রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারীকের দফতর ঘেরাও করে প্রদেশ কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকরা৷কিন্তু এই ঘটনার দায় ঝেড়ে ফেলেছে কমিশন৷ তাদের দাবি, এই সংঘর্ষ বুথের ভিতরে ঘটেনি৷ তাই এর সঙ্গে ভোটের কোনও সম্পর্ক নেই৷কমিশনের এই প্রতিক্রিয়ার কড়া সমালোচনা করেছে কংগ্রেস৷

কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য বলেন, “কমিশন কীভাবে এই কথা বলছে বুঝতে পারছি না৷ যে কোনও গন্ডগোল বুথে ভিতরে ঘটুক বা বাইরে ঘটুক, সেটা কোনও কথা নয়৷ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব যেহেতু কমিশনের তাই যে কোনও গন্ডগোলের দায় কমিশনকেই নিতে হবে৷”

মঙ্গলবার তৃতীয় দফার ভোটগ্রহণ পর্বের শেষবেলায় মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলার ১৮৮ নম্বর বুথে কংগ্রেস- তৃণমূলের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। সেই সংঘর্ষে এক কংগ্রেস কর্মীর মৃত্যু হয়েছে৷জানা গিয়েছে, নিহতের নাম টিয়ারুল আবুল কালাম।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, টিয়ারুল ভোট দিয়ে ফেরার সময় তাঁকে গালিগালাজ করেন কয়েক জন তৃণমূল কর্মী। সেখান থেকেই গন্ডগোলের সূত্রপাত। এর পর তাঁর উপর আক্রমণ করে লালু নামে স্থানীয় এক দুষ্কৃতী। তাঁর পেটে হাঁসুয়া দিয়ে কোপ মারে।সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে স্থানীয় নসিপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে পাঠানো হয় বহরমপুর মেডিক্যাল কলেজে। সেখানেই মৃত্যু হয় টিয়ারুলের।

এই ঘটনার পর সোমেন মিত্র বলেন, “টিয়ারুল দীর্ঘদিনের কংগ্রেস কর্মী৷ওর অপরাধ ছিল যে ও শাসক দলের কাছে বিক্রি হয়নি৷ টিয়ারুলদের ভয় দেখিয়ে, লোভ দেখিয়ে কেনা যায় না৷ তাই ক্ষমতার মোহে শাসক দলের পোষা গুন্ডারা টিয়ারুলকে খুন করেছে৷তবে কথা দিচ্ছি, সারা বাংলার কংগ্রেস কর্মীরা টিয়ারুলের মৃত্যুর প্রতিশোধ ভোট বাক্সে নেবে৷”