নয়াদিল্লি: সম্প্রতি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিনকে পরাক্রণ দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তারপরই বিজেপির সাংসদ সাক্ষী মহারাজ অভিযোগ করলেন যে কংগ্রেসই আসলে ছিল সুভাষচন্দ্র বসুর ঘাতক। তারাই নেতাজিকে হত্যা করেছে।

উন্নাওতে এক জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে একথা বলেন বিজেপি সাংসদ। তিনি বলেন, “আমার অভিযোগ হল কংগ্রেসই সুভাষ চন্দ্র বসুকে হত্যা করেছে। মহাত্মা গান্ধী বা পণ্ডিত নেহেরু কেউই তাঁর জনপ্রিয়তার সামনে দাঁড়াতে পারেনি। সুভাষচন্দ্র বসু ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। কেন তাঁর মৃত্যু হল তা এখনও রহস্য। কেন পণ্ডিত নেহেরু কোনও তদন্ত করেননি? তাঁর মৃত্যুর সত্যতা অবশ্যই প্রকাশিত হতে হবে।” সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৫ তম জন্মবার্ষিকী যখন দেশজপড়ে উদযাপিত হচ্ছে, তখন এমন কথা বললেন বিজেপি সাংসদ।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। তিনি ১৯৪৫ সালের ১৮ আগস্ট তাইপইয়ে একটি বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান বলে বলা হয়। যদিও আজাদ হিন্দ ফৌজের তাঁর অনুগত সহ অনেকেই এই বিমান দুর্ঘটনার কথা বিশ্বাস করেননি, আজও করেন না। কেন্দ্রীয় সরকার ২০১৭ সালে আরটিআই (তথ্য অধিকার আইন) আনে। সেই আইনের আওতায় জানা যায় যে দুর্ঘটনায় সত্যই নেতাজির মৃত্যু হয়েছিল।

নেতাজি ফাইল থেকে প্রাপ্ত ঘোষিত কাগজপত্র অনুসারে, জওহরলাল নেহেরু গোয়েন্দা ব্যুরোকে (আইবি) বোস পরিবারের সদস্যদের ভারী নজরদারি করার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন। ১৯৪৮ থেকে ১৯৬৮-এর মধ্যে এই সংস্থার সরকারি অফিসাররা মহান ভারতীয় দেশপ্রেমিকের পরিবারের সদস্যদের চিঠিপত্রগুলি নিয়মিত পড়তেন এবং রেকর্ড করতেন। এটুকুই পর্যাপ্ত ছিল না। এজেন্টরা পরিবারের সদস্যদের ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ও বিদেশেও অনুসরণ করতেন।

১৯৪৮ থেকে ১৯৬৪ সালের মধ্যে আইবি-র নেতৃত্বে ছিলেন জওহরলাল নেহেরুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ভোলানাথ মল্লিক। তিনি ১৯৪৫ সালে নেতাজি নিখোঁজ হওয়ার পর বসু পরিবারের উপর গভীর নজর রাখতে সাহায্য করেছিলেন। তাইহোকুর বিমান দুর্ঘটনা ভারতের স্বাধীনতায় এক রহস্যময় অধ্যায়। তারপর থেকে উত্তর ভারতে আরও একটি রহস্যজনক অধ্যায় শুরু হয়। ‘গুমনামি বাবা’ নামে এক ব্যক্তিকে তখন ভারতে দেখা গিয়েছিল। অনেকে বিশ্বাস করেছিলেন তিনিই নেতাজি।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে বিষ্ণু সাহাই কমিশন এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলেন যে রহস্যময় ‘গুমনামি বাবা’ নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু নন। তাঁর অনুগামী ছিলেন। কয়েক দশক ধরে, লোকেরা বিশ্বাস করেছিল যে নেতাজি তাঁর পরিচয় গোপন করে বিস্মৃত জীবন যাপন করছেন। তবে রাজ্যের বিধানসভায় উপস্থাপিত প্রতিবেদনে কমিশন বলেছিল যে গুমনামি বাবা নেতাজির অনুসারী এবং তাঁর কণ্ঠ নেতাজির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।