স্টাফ রিপোর্টার, বনগাঁ: দুপুর থেকেই বনগাঁ পুরসভার দখলদারি নিয়ে শাসক বিরোধী দড়ি টানাটানি৷ সঙ্গে বোমাবাজি৷ টানটান উত্তেজনা৷ তার মাঝেই তৃণমূল ও বিজেপির দাবি আস্থাভোটে তারাই জয় পেয়েছে৷ কিন্তু, জিতল কারা? এক্সিকিউটিভ অফিসারের উত্তর ঘিরে বিভ্রান্তি চরমে৷

এক্সিকিউটিভ অফিসার গৌরাঙ্গ বিশ্বাস এবিষয়ে কোনও উত্তরই দিতে নারাজ৷ তাঁর জবাব, ‘‘এদিনের সব রিপোর্ট নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেবেন৷’’ তৃণমূলের দাবি বনগাঁ পুরসভায় আস্থা ভোট হয়েছে৷ শাসক শিবিরের সেই দাবি খণ্ডন করে পালটা বিজেপির সাফাই কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও তাদের কাউন্সিলরদের সেখানে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে৷ যা নিয়ম বিরুদ্ধ৷ হাইকোর্টকে পুরো বিষয়টি জানাবেন তারা৷

এসবের মাঝেই এক্সিকিউটিভ অফিসার বলেন, ‘‘নির্দিষ্ট সময় আস্থা ভোট হয়েছে। একটিই প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। পরে কেউ এসে আরেকটি প্রস্তাব দিয়ে গেলে আমার কিছু করার নেই।’’ তবে ভোটাভুটিতে কারা জয়ী হয়েছে তা বলতে অস্বীকার করেন তিনি৷ ভোট বৈধ হলে অঙ্কের হিসাবে বনগাঁ পুরসভার এখনও জোডা়ফুল শিবিরের হাতে৷। বিজেপি পরে গিয়ে একটি প্রস্তাব পেশ করে৷ তবে তা গৃহীত হয়নি বলে অফিসারের কথাতেই স্পষ্ট৷

আস্থা ভোট ঘিরে এদিন সকাল থেকেই চাপা উত্তেজনা ছিল বনগাঁ পুরসভায়। দুপুরের পর বনগাঁ পুরসভার সামনে আসেন দুই বিজেপি কাউন্সিলর কার্তিক মণ্ডল ও হিমাদ্রী মণ্ডল। এক কাউন্সিলরকে অপহরণে অভিযুক্ত দুই বিজেপি কাউন্সিলরের গ্রেফতারিতে এদিনই এক সপ্তাহের অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। কলকাতা হাইকোর্টের ‘অর্ডার’ নিয়েই পুরসভা চত্বরে আসেন ওই দুই কাউন্সিলর।

এরপরই দুই বিজেপি কাউন্সিলরকে পুরসভায় ঢুকতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। পুরসভার সামনে দুই কাউন্সিলরকে দেখে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরাও। অবিলম্বে ওই দুই কাউন্সিলরকে গ্রেফতারের দাবি জানান তাঁরা। পাশাপাশি, বনগাঁর পুরপ্রধান শঙ্কর আঢ্যের সমর্থনে স্লোগানও দিতে থাকেন তাঁরা।

বিজেপির দুই কাউন্সিলর কার্তিক মণ্ডল ও হিমাদ্রি মণ্ডলকে পুরসভায় না ঢুকতে দেওয়ায় রীতিমতো বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বিজেপি কর্মীরাও। এক সময় গার্ডরেল ভাঙার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি বেধে যায় বিজেপি কর্মীদের। পরে পুলিশের সঙ্গে বিজেপি কর্মীদের খণ্ডযুদ্ধ বেধে যায়। পুলিশের সামনেই চলে বোমাবাজি। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রসঙ্গত, বনগাঁর তৃণমূল পুরপ্রধান শঙ্কর আঢ্যের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধে টালবাহানার অভিযোগে হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন ৩ কাউন্সিলর। গত বৃহস্পতিবার সেই আবেদনের ভিত্তিতে বনগাঁ পুরসভায় ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অনাস্থা প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেয় আদালত। বিচারপতি জানান, চারদিনের মধ্যে অনাস্থা প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।