প্রতকি ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: প্রায় একবছরেরও বেশি সময় ধরে কেবলমাত্র পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বর থানা এলাকায় স্কুলে কম্পিউটার চুরির ঘটনায় রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি হল। বিশেষ করে চলতি এপ্রিল মাসেই পরপর তিনটি স্কুলে কম্পিউটার চুরির ঘটনা ঘটলেও পুলিশ এখনও পর্যন্ত এই ব্যাপারে কাউকে গ্রেফতারও করতে পারেনি। উদ্ধারও করতে পারেনি কোনও চুরি যাওয়া কম্পিউটার।

স্কুল থেকেই লাগাতার এই কম্পিউটার চুরির ঘটনা কেন ঘটছে? এর পিছনে কী উদ্দেশ্য রয়েছে, তা নিয়েও রীতিমতো ধন্দে পড়েছে পুলিশ থেকে স্কুল কর্তৃপক্ষরাও। এর পাশাপাশি অন্যান্য স্কুলেও এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

আরও পড়ুন: মোদী-কোবিন্দকে নিয়ে ফেসবুকে কার্টুন পোস্ট করে শ্রীঘরে যুবক

গত ২৫ এপ্রিল গভীর রাতে মন্তেশ্বর থানার ঢিল ছোড়া দূরত্বে থাকা মন্তেশ্বর সাগরবালা উচ্চবিদ্যালয় থেকে চুরি যায় ২০টি কম্পিউটার এবং দুটি কমিউনিটি কম্পিউটার মেশিন। স্কুলে ছিল মোট ৩৪টি কমপিউটার। এরপরের দিন বৃহস্পতিবার পিপলন শ্রী অরবিন্দ বিদ্যামন্দির থেকে চুরি হয় ৭টি কমপিউটার এবং ১টি কমিউনিটি কম্পিউটার মেশিন।

উল্লেখ্য, এই স্কুল থেকেই ২০১৩ সালের ৩ ডিসেম্বর ১০ টা কম্পিউটার চুরি হয়েছিল। এই ১০ টা কম্পিউটার আইসিটি প্রোজেক্টের ছিল। এই স্কুলেই ২০১৩ সালে চুরি হয়ে যাওয়ার পর থিওরি চালু থাকলেও প্র্যাক্টিক্যাল বন্ধ হয়ে যায়।

পরে বেসরকারি সংস্থা ৬টা কম্পিউটার বসিয়ে স্কুলে কম্পিউটার শেখানো শুরু হয়৷ কিন্তু আবার চুরি হওয়ায় স্কুলের প্র্যাক্টিক্যাল বন্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি অফিসের কম্পিউটার চুরি হয়ে যাওয়ায় চরম সমস্যা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

আরও পড়ুন: জেল থেকে LIVE অডিও বার্তা দিচ্ছে আসারাম

ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আসরফ আলি জানিয়েছেন, ওই চুরির ঘটনার পর থানায় অভিযোগ করা হয়৷ এরপর জন দু’জন সিভিক ভলান্টিয়ারকে দেওয়া হয়। কিন্তু তাঁরা রাত সাড়ে ১০টায় আসত। এমনকী, সেটাও চোরদের জানা ছিল।

এদিকে, খোদ মন্তেশ্বর এলাকায় পরপর চুরির ঘটনায় পুলিশ বা প্রশাসনের কোনও হেলদোল না থাকায় প্রশ্ন উঠেছে। এই দুই ঘটনার পর ফের শুক্রবার গভীর রাতে শুশুনিয়া রানিবালা বিদ্যামন্দির থেকে ১০টি কম্পিউটার চুরি হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় আট মাস আগে ধামাচিয়া বিদ্যাসাগর বিদ্যামন্দির থেকে ২১টি কমপিউটার চুরি হয়। কাটসিহি হাইস্কুল থেকে ১৫ টি কমপিউটার চুরি হয়। দেবপুর হাইস্কুল (কানপুর) থেকে ১৭ টি কমপিউটার চুরি হয় প্রায় ১ বছর আগে।

আরও পড়ুন: আইপিএলের মাঝে শামির বিরুদ্ধে ফের বোমা ফাটালেন হাসিন

এছাড়াও জামনা হাইস্কুল থেকে প্রায় ৪ মাস আগে ১৪ টি, মালডাঙ্গা রাজেন্দ্র ইন্সটিটিউট থেকে প্রায় দেড় বছর আগে ১৩ টি, মেমারি ২ ব্লকের খোরোদ আমেলা হাইস্কুল থেকে ১৬ টি কম্পিউটার চুরি হয় প্রায় ৬ মাস আগে।

এই ঘটনায় রীতিমতো ক্ষুব্ধ জেলা স্কুল পরিদর্শক (মাধ্যমিক) খগেন্দ্র রায়। তিনি জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট থানা ছাড়াও জেলাশাসক এবং তাঁর কাছেও স্কুলের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে। পুলিশ সুপারকেও জানানো হয়েছে।

ক্ষুব্ধ খগেন্দ্রনাথবাবু প্রশ্ন তুলেছেন, সিভিক ভলান্টিয়ার থাকা সত্ত্বেও কী করে চুরি হয়? কোনও চক্র কি কাজ করছে? এটা পরিকল্পিতভাবে হচ্ছে। তাঁরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাচ্ছেন। এইভাবে একের পর এক চুরি হয়ে গেলে স্কুল আর কপিউটার পাবে না।

আরও পড়ুন: মোবাইল-ইন্টারনেট ছাড়াও টাকা দেওয়া-নেওয়া করা যাবে Paytm-এ

কালনা মহকুমা পুলিশ আধিকারিক শান্তনু চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রত্যেকটি ঘটনায় অভিযোগ হয়েছে। তদন্ত চলছে। সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আগের ঘটনাগুলোর পর টহল বাড়ানো হয়েছে৷ মোবাইল টহলদারি ভ্যান বাড়ানো হয়েছে।

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।