গুয়াহাটি: প্রতিদিন বাড়ছে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ। ক্রমবর্ধমান সংক্রমণের দিকে তাকিয়ে ফের লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে অসমে। সপ্তাহশেষে আবারও লকডাউনে ঢুকছে উত্তর-পূর্বের রাজ্য।

এছাড়াও জুনের ২৮ তারিখ মধ্যরাত থেকে অসমের কামরূপ মেট্রোপলিটন ডিসট্রিক্টে ১৪ দিনের জন্য শুরু হচ্ছে লকডাউন। পুরোপুরি লকডাউনে সব নিয়ম মেনে চলা হয়েছে।

অসমের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, “লকডাউন চলাকালীন সব ওষুধের দোকান খোলা থাকবে”। শুক্রবার ঘোষণার সময় হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, “শনিবার এবং রবিবার শহরাঞ্চলেও উইকএন্ড লকডাউন মেনে চলা হবে এবং পরবর্তী নোটিশ আসা অবধি তা মেনে চলা হবে”।

দেশে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। প্রায় প্রতিদিনই ছাড়াচ্ছে পুরনো সংক্রমণের মাত্রা। বৃহস্পতিবার ফের সর্বোচ্চ সংক্রমণের রেকর্ড ভারতে। ২৪ ঘন্টায় নতুন করে করোনা আক্রান্ত হলেন ১৭ হাজার ২৯৬ জন। এছাড়াও করোনার জেরে ২৪ ঘন্টায় মৃত্যু হয়েছে ৪০৭ জনের।

এরফলে দেশে মোট করোনা সংক্রমনের ঘটনা বেড়ে দাঁড়াল ৪ লক্ষ ৯০ হাজার ৪০১ টি। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠা মানুষের সংখ্যা ২ লক্ষ ৮৫ হাজার ৬৩৭ টি। দেশে অ্যাক্টিভ কেস রয়েছে ১ লক্ষ ৮৯ হাজার ৪৬৩ টি। মোট মৃত্যু হয়েছে ১৫ হাজার ৩০১ জনের।

অন্যদিকে তেলেঙ্গানার হায়দরাবাদের ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা হেটেরো তৈরি করেছে করোনা ভাইরাসের ওষুধ রেমিডিসিভির। এই ওষুধ প্রথম পাঠানো হয়েছে দেশের পাঁচটি রাজ্যে। প্রায় ২০ হাজার ওষুধ পাঠানো হয়েছে বলে খবর। তবে যে পাঁচটি রাজ্যে এই ওষুধ পাঠানো হয়েছে, সেই তালিকায় নেই বাংলা। মহারাষ্ট্র ও দিল্লি-এই দুই রাজ্য করোনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ।

লাগামছাড়া সংক্রমণে ত্রস্ত দিল্লি। একটানা লকডাউনে মেলেনি ফল। বিপজ্জনক চেহারা নিয়েছে দিল্লির করোনা পরিস্থিতি। আক্রান্তের সংখ্যা ৭৪ হাজার ছুঁই ছুঁই। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নাজেহাল দশা দিল্লির সরকারের।

স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী শুক্রবার সকাল পর্যন্ত দিল্লিতে নোভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৭৩ হাজার ৭৮০। দিল্লিতে করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ৪২৯। এখনও পর্যন্ত ৪৪ হাজার ৭৬৫ জন করোনামুক্ত হয়ে ফিরেছেন।

প্রতিদিন দিল্লির বিভিন্ন এলাকা থেকে নতুন করে করোনা আক্রান্তের হদিশ মিলছে। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে রোগী ভর্তির জায়গা কমেছে। বহু হাসপাতাল করোনা রোগী গেলেই ফিরিয়ে দিচ্ছে বলে দিল্লিজুড়ে অভিযোগ উঠেছে।

আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ার সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুও। এই পরিস্থিতিতে মধ্য দিল্লির একটি কবরস্থানের ৭৫ শতাংশ এলাকায় ইতিমধ্যেই মৃতদেহ সমাধিস্থ করা হয়েছে।

সপ্তম পর্বের দশভূজা লুভা নাহিদ চৌধুরী।