স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: ভয়াবহ দূষণের মুখে পড়লেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষ্ণসায়র ও তৎসংলগ্ন এলাকার মানুষ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্ধমানের গোলাপবাগ চত্বর জুড়ে তীব্র চাপান উতোর শুরু হয়েছে। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগের আঙুল উঠেছে। বর্ধমানের গোলাপবাগ চত্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রয়েছে কৃষ্ণসায়র পার্ক। সম্প্রতি কৃষ্ণসায়রের জলে প্রচুর পরিমাণে পানা হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ টেণ্ডার ডেকে ওই পানা পরিষ্কারের বরাত দেয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই কৃষ্ণসায়রে মাছ চাষ হয়। এই মাছ চাষের ক্ষেত্রেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি সংস্থাকে বরাত দেয়। কিন্তু প্রায় বছর তিনেক হল ওই সংস্থার সঙ্গে মামলা চলছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। আর তার জেরেই পুকুর সংস্কার হয়নি প্রায় তিন বছর। ফলে গোটা পুকুর পানায় ভরতি হয়ে যায়। সাম্প্রতিককালে পতঙ্গ বাহিত রোগে প্রতিরোধে সমস্ত জলাশয় পরিষ্কার করার নির্দেশ জারি করা হয় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে।

আরও পড়ুন: ৫১টি শাখা বন্ধ করে দিচ্ছে এই ব্যাংক! সমস্যার মুখে গ্রাহকরা

আর তারপরেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে। গত অগাস্ট মাসে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই পানা পরিষ্কারের জন্য টেণ্ডার ডাকে। টেণ্ডার তথা বরাত পায় একটি বেসরকারি সংস্থা। প্রায় ৩ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয় এই পানা পরিষ্কারের জন্য।

কৃষ্ণসায়র পার্ক সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই জলাশয়ে প্রায় কয়েক লক্ষাধিক টাকার মাছ রয়েছে। তাই পানা পরিষ্কারের ক্ষেত্রে শর্ত আরোপ করা হয়৷ জলাশয় থেকে পানা পাড়ে তুলে সেই পানাকে কীটনাশকের মাধ্যমে নষ্ট করতে হয়। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, সংশ্লিষ্ট বরাত পাওয়া সংস্থাটি জলাশয়ে পানা থাকা অবস্থাতেই কীটনাশক স্প্রে করে। এরফলে গোটা জলাশয়ের জল দূষিত হয়ে পড়েছে। গত কয়েকদিন মাছ মরে ভেসে উঠেছে পুকুরে। আর গোটা জলাশয়ের জল পচে গিয়ে এলাকায় তীব্র দূষণ ছড়িয়েছে। দুর্গন্ধে গোটা এলাকার মানুষ অতিষ্ট হয়ে উঠেছেন।

আরও পড়ুন : শিক্ষক নিয়োগে বড় ঘোষণা, ন্যূনতম যোগ্যতা স্নাতক হলেই চাকরি

অভিযোগ উঠেছে, এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নজরদারির প্রয়োজন ছিল। কেন বরাত পাওয়া সংস্থা জলাশয়েই কীটনাশক দিয়ে পানা মারল, উঠেছে সে প্রশ্ন৷ যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষয়টি নজরে আসার পরই সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরিবর্তে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিজেই পানা তুলে ফেলার কাজ শুরু করে। কিন্তু যেহেতু আগেই সংস্থাটি জলাশয়ে পানা থাকা অবস্থাতেই কীটনাশক স্প্রে করে৷ তাই ক্ষতি যা হওয়ার তা হয়ে গিয়েছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী৷

বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার দীপেন্দ্রনাথ দে জানিয়েছেন, এই বিষয়ে রবিবার কৃষ্ণসায়র পরিদর্শন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনায় পূর্ব বর্ধমান জেলার মৎস্য সহ-অধিকর্তা দেবাশিস পালুই জানিয়েছেন, এই রকম একটা এই ঘটনার কথা তাঁদের কানেও এসেছে। তাঁরা গোটা বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে তাঁরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন বলেও জানিয়েছেন।