স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: ফের চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটল বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালে। এই ঘটনায় কর্তব্যরত চিকিৎসকের গাফিলতির অভিযোগ তুলে বিষ্ণুপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মৃত শিশুর পরিবার।

জানা গিয়েছে, চলতি মাসে ২০ তারিখ বিষ্ণুপুরের দেঝাঁট গ্রামের গৃহবধূ মালা বিশ্বাস বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালে দুই কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। জন্মের অব্যবহিত পরেই ওই দুই নবজাতকের জণ্ডিস ধরা পড়ে৷ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই দুই শিশুকে এসএনসিইউ বিভাগে ভরতি করে চিকিৎসা শুরু করেন।

আরও পড়ুন: রাধিকাপুর-তেভাগা লিঙ্কের এক্সপ্রেস নিয়ে আন্দোলনের হুমকি

পরে গত বুধবার রাতে দ্বিতীয় শিশুটির শারিরীক অবস্থার অবনতি হয়৷ পরিবারের তরফে কর্তব্যরত চিকিৎসককে খবর দেওয়া হয়। মৃত শিশুর পরিবারের অভিযোগ, রাতে বার বার ওই চিকিৎসককে শিশুর শারিরীক অবনতির কথা জানানো হয়৷ কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে দেখতে আসেনি৷ ভোরে এসে তিনি শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

মালা বিশ্বাসের কাকা জীবন চৌধুরী জানান, তার ভাইঝি ২০ সেপ্টেম্বর দু’টি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। পরে চিকিৎসকরা জানান, ওই দুই শিশুর জণ্ডিস হওয়ার কারণে বিশেষ ব্যবস্থায় রাখতে হবে। ওই বিশেষ ঘরে মা ছাড়া নার্সদের তত্ত্বাবধানে রাখা হয় শিশু দু’টিকে।

আরও পড়ুন: এবার ঝাড়গ্রামেই ক্রেতা সুরক্ষা দফতর

পরে ওই শিশু মৃত্যুর ঘটনা শ্বাস নালিতে খাবার আটকে যাওয়ার কারণেই হয়েছে বলে জানানো হয়। কিন্তু তা মানতে রাজি নন মৃত শিশুর পরিবার। তাদের প্রশ্ন তাহলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের জানানো সত্তেও তাঁরা আসেনি কেন? কি করছিলেন তারা? মালা বিশ্বাসের দাদা জীবন চৌধুরীও এই ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগে সরব হয়েছেন।

যদিও কর্তব্যরত চিকিৎসক তার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির সদস্য দিব্যেন্দু ব্যানার্জী এই ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান। তিনি বলেন, এক শ্রেণীর চিকিৎসক ও নার্স সরকারি পরিষেবা দেওয়ার বদলে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছেন। বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলে তিনি জানান।

আরও পড়ুন: ইলামবাজারে তৃণমূল কার্যালয়ে হামলা! নাম জড়াল বিজেপির

হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সুপার ডাঃ তড়িৎ কান্তি পাল জানান, মৃত শিশুর পরিবারের তরফে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। ওই শিশুর মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করা হবে। তারপর কি কারণে মৃত্যু হয়েছে তা জানা যাবে। তদন্তে কোন চিকিৎসক-নার্সের বিরুদ্ধে দোষ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।

গত কয়েক দিন আগেই এই হাসপাতাল পরিদর্শণে এসেছিলেন জেলাশাসক ডাঃ উমাশঙ্কর এস৷ সেই সময় এক অস্থায়ী কর্মীকে তিনি মদ্যপ অবস্থায় দেখেন৷ তখন তিনি ওই কর্মীকে পুলিশের হাতে তুলে দেন৷ সেই সঙ্গে দুই চিকিৎসককে শোকজের নির্দেশ দেন।

আরও পড়ুন: বিজেপি বিধায়কের বাড়ির সামনে গ্রেনেড হামলা

তারপরেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতিতে শিশু মৃত্যুর অভিযোগ ওঠায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জেলার অন্যতম সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালের এই ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কবে এই সরকারি হাসপাতালের হাল ফিরবে সেদিকেই তাকিয়ে বিষ্ণুপুরের মানুষ।

আরও পড়ুন: অনুব্রতর জেলায় পুজোয় নামছে ‘টাইগার ফোর্স’