কার্তিক সাহা , হাড়োয়া: অজানা জ্বরে আক্রান্ত শয়ে শয়ে মানুষ৷ জায়গা হচ্ছে না হাসপাতালের মেঝেতেও৷ এমনি ছবি উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায়৷ তার উপর ডাক্তারদের দুর্ব্যবহার৷ গায়ে হাত দেওয়া তো দূরে থাক ভাল করে সমস্যার কথা টুকু শোনে না৷ তবে সব সমস্যার কথা শুনবে যদি হাতে দেওয়া হয় কড়কড়ে একশো টাকার একটা নোট৷ ঠিক এমনটাই অভিযোগ রোগী ও তাদের আত্মীয়দের৷ এই সমস্যার কথা শুনে এলাকার স্থানীয় ব্যবসায়ীরা একটি ডাক্তার নিয়ে বাজারেই খুলেছেন অস্থায়ী চিকিৎসা শিবির৷ জামা কাপড়ের দোকানে রেখে চলছে রোগীদের চিকিৎসা৷ তবে, এই সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক৷

এমনটাই ঘটনা ঘটে চলেছে উত্তর ২৪ পরগনার হাড়িয়া ব্লকে৷ গত কয়েক মাস ধরে বেড়েই চলেছে অজানা জ্বরের দাপট৷ শয়ে শয়ে মানুষ আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি, প্রতিদিন গড়ে এক জন করে মারা যাচ্ছে৷ কিন্তু সরকারের কোনও হেলদোল নেই৷ স্থানীয় হাড়োয়া হাসপাতালে গেলে রোগীদের গরু ছাগলদের মতো দেখা হচ্ছে। মাত্র তিরিশ টি বেডে জায়গা হচ্ছেনা রোগীদের। বাধ্যতামূলক হাসপাতালের মেঝেতে রেখে চলছে চিকিৎসা। তাতেও জায়াগা হচ্ছে না হাসপাতালে।তার উপর ডাক্তারদের দুর্ব্যবহার। গায়ে হাত দেওয়া তো দূরে থাক সমস্যার কথা টুকু ভালো করে শোনেই না। তবে গায়ে হাত দিয়ে দেখবে,সমস্যার কথা শুনবে,যদি ডাক্তারদের হাতে দেওয়া হয় কড়কড়ে একশো টাকার নোট। কিন্তু গরিব মানুষ টাকা পাবে কোথায়? তাই বাধ্য হয়ে বাড়ি ফিরিয়ে আনতে হচ্ছে রুগীদের৷ এই ভাবে আস্তে আস্তে চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়তে হচ্ছে রুগীদের৷

এমন অবস্থা দেখে হাড়োয়া থানা সংলগ্ন বাচ্চু মিঞার মার্কেটের কয়েক জন ব্যবসায়ীরা মিলে একটি ডাক্তরকে রেখে এই সব মানুষদের চিকিৎসা করা হচ্ছে৷ কিন্তু এখানে কোনও স্থায়ী ঘর না থাকায় পাশের একটি টেলার্সের দোকানের বারান্দায় রেখে চলছে চিকিৎসা৷ তাদের এই চিকিৎসা নাকি হাসপাতালের থেকেও আরও অনেক ভালো৷ এখানে প্রতিদিন প্রায় শয়ে শয়ে মানুষ চিকিৎসা পাচ্ছেন৷ কিন্তু সরকারি হাসপাতাল থাকতে এমন টা হবে কেন? এই বিষয়ে হাসপাতালে জানাতে গেলো পুরো বিষয়টা অস্বীকার করেন ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক অর্ধেন্দু রায়৷

তিনি বলেন, ‘‘এ সব পুরো মিথ্যে কথা৷ বিশেষ করে টাকা চাওয়ার কথাটা৷ তবে হ্যাঁ এই ছোট হাসপাতালে এতো রুগীদের জায়গা দেওয়া যাচ্ছে না। তার উপর আমার মাত্র চারটি ডাক্তার৷ তারা কোণ দিকে সামলাবে৷ বহির্বিভাগে শয়ে শয়ে রুগীদের লাইন৷ এতো রুগীদের কিভাবে চিকিৎসা করবো আমরা৷ তাই একটু খারাপ অবস্থা যাদের, তাদের বারাসাত হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়৷ আর সুযোগে এই সুযোগে ফায়দা তুলছে স্থানীয় হাতুড়ে ডাক্তাররা৷ তারা রোগীদের জীবন নিয়ে খেলা করছে৷ যখন রুগীরা মারা যাবার মতো হয় তখন হাসপাতালে এনে ভর্তি করায়৷ আর যদি মারা যায় তখন দোষ হয় আমাদের৷’’

কিন্তু সবই তো বোঝা যাচ্ছে। এই সব রুগীরা আর কতদিন দোকানের বারান্দায় খোলা আকাশের নীচে চিকিৎসার জন্য দিক কাটাতে কাটাতে মৃত্যুর দিকে ঢোলে পড়বে। প্রশ্ন চিহ্ন রয়েই যাচ্ছে এলাকাবাসীর মুখে।আতঙ্কিত হাড়োয়ার মানুষ।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.