স্টাফ রিপোর্টার, তমলুক: আইনি সহায়তা দেওয়ার অজুহাতে এক মহিলাকে লাগাতার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে রামনগর থানার এক পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে৷ অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবলের নাম শেখ মোসারফ৷

এলাকায় মুসা নামে পরিচিত৷ অভিযোগ সামনে আসতেই অভিযুক্ত মুসাকে রাতারাতি রামনগর থেকে সরিয়ে তমলুক থানাতে বদলি করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ৷

আরও পড়ুন: জন্মদিনে কুকুরদের ট্রিট দিলেন কিশোরী

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মহিলার শ্বশুরবাড়ি রামনগর থানার পালধুইয়ে৷ তাঁর স্বামীর দু’টো বিয়ে। তিনি দ্বিতীয়পক্ষের স্ত্রী। শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় না হওয়ায় বালিসাইয়ে একটি ভাড়াবাড়িতে স্বামীর সঙ্গে উঠেছিলেন ওই মহিলা৷ বছরদেড়েক আগে অশান্তি শুরু হলে তাঁকে ছেড়ে পালিয়ে যায় তাঁর স্বামী৷ মহিলার দাবি, ওই মহিলা স্বামীর বিরুদ্ধে রামনগর থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে পরিচয় হয় মুসার সঙ্গে। সেই থেকে স্বামী-স্ত্রী’র সম্পর্কে জোড়া লাগানোর কথা বলে মহিলার বাড়িতে আসা-যাওয়া শুরু করে কনস্টেবল মুসা৷

নির্যাতিতার অভিযোগ, অসহায়তার সুযোগ নিয়ে তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ায় মুসা৷ বিয়েরও প্রস্তাব দেয় তাঁকে৷ প্রথমে রাজি না হলেও নিজের অসহায়তার কথা ভেবে সে বিয়েতে রাজি হয়ে যায়৷ শুরু হয় অবাধ মেলামেশা৷ দিঘা থেকে শুরু করে কলকাতার বিভিন্ন হোটেলেও মহিলাকে নিয়ে যায় সে৷ মহিলা অন্তঃসত্ত্বা হলে গর্ভপাতও করানো হয়৷ মহিলার দাবি, মাস তিনেক আগে বিয়ের প্রসঙ্গ উঠলেই বেঁকে বসে অভিযুক্ত মুসা৷ নিজেকে বিবাহিত বলে দাবি করে সে৷ প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে থানা যেতে চাইলে মুসা খুনের হুমকি দেয় বলে নির্যাতিতার দাবি৷ সেই থেকেই মহিলা আতঙ্কে ছিলেন৷ সম্প্রতি হুমকি বাড়তে থাকায় গত ৩১ জানুয়ারি ডাকযোগে অভিযোগ পাঠান জেলার পুলিশ কর্তাদের৷

আরও পড়ুন: রহস্য জিইয়ে ২৪ ঘণ্টা পর ফিরল নিখোঁজ দুই ছাত্র

মহিলার স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘‘অভিযুক্ত মুসাই তাঁদের মধ্যে দূরত্ব বাড়িয়ে দিয়েছিল৷ আর সেই সুযোগ নিয়েই তাঁর স্ত্রীকে সে ধর্ষণ করেছে৷ হাতে পেলেও পুলিশ গ্রেফতার করেনি অভিযুক্ত কনস্টেবল শেখ মোসারফ ওরফে মুসাকে৷ উলটে অভিযুক্তকে রাতারাতি অন্য থানায় বদলি করে দিয়েছেন রামনগর থানার ওসি৷’’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ্রামীণ) ইন্দ্রজিৎ বসু বলেন, ‘‘আমি মহিলার অভিযোগ পেয়েই রামনর থানাকে ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি৷ আর বদলির ব্যাপার আমার অজানা৷ সম্প্রতি বদলির নোটিশও জারি হয়নি৷ আমরা বিষয়টা খতিয়ে দেখছি৷’’ রামনগর থানার পুলিশ সূত্রে খবর, এটা রুটিন বদলি৷ অনেক আগেই মুসার বদলির নির্দেশ এসেছিল৷

আরও পড়ুন: চিকিৎসার গাফিলতিতে জোড়া শিশুমৃত্যুর অভিযোগ

যদিও পুলিশ সূত্রে খবর, উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁর বাসিন্দা মুসা ২০১৩ সাল থেকে টানা এতবছর একই জায়গায় থাকার কারণে এলাকায় তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠেছে৷ সেই সব অভিযোগও ওই মহিলা পুলিশকে জানিয়েছেন৷

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

কোনগুলো শিশু নির্যাতন এবং কিভাবে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো যায়। জানাচ্ছেন শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞ সত্য গোপাল দে।