বেঙ্গালুরু: রাম এবং রাম মন্দির নির্মাণ নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে উত্তর ভারতের অযোধ্যা। সেই সময়ে সেই রামকে নিয়েই উত্তপ্ত হয়ে উঠল দক্ষিণ ভারতের রাজ্য কর্ণাটক। সৌজন্যে লেখক কেএস ভগবান।

কন্নড় লেখক কেএস ভগবানের কলমের খোঁচায় একাধিকবার বিদ্ধ হয়েছে দক্ষিণ পন্থী গোষ্ঠীগুলি। সেই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে হিন্দুত্ব বাদীরা। কারণ তাঁর লেখায় বার বার সমালোচিত হয়েছে শ্রীরাম। শুধু তাই নয় রামের সঙ্গে দোসর রয়েছেন স্ত্রী সীতা, শ্রীকৃষ্ণ, শিব, চামুণ্ডেশ্বরী এবং জাতির জনক মহাত্মা গান্ধী।

বিভিন্ন লেখা এবং বক্তব্যে এই সকল বিষয়ের সমালোচনা করেছেন। সম্প্রতি তাঁর লেখা বই ‘রামা মন্দিরা একে বেদা’ বই নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। বইয়ের নামের বাংলা অর্থ হচ্ছে, ‘কেন রাম মন্দিরের প্রয়োজন নেই’। সেপ্টেম্বরে বইটি প্রথম প্রকাশিত হয়। মাস খানেক পরে প্রকাশিত হয়েছে সেই বইয়ের দ্বিতীয় সংস্করণ। এরপর থেকেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।

লেখক কেএস ভগবানের বিরুদ্ধে হিন্দু ধর্মের ভাবাবেগের উপরে আঘাত করার অভিযোগ নতুন কিছু নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে তিনি শ্রীরাম, শ্রীকৃষ্ণ, মহাদেব, দেবী চামুণ্ডেশ্বরীদের নিয়ে বিদ্রূপ করেছেন। শুধু তাই নয়, জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীও বাদ যায়নি কেএস ভগবানের আক্রমণের নিশানা থেকে। এই নিয়ে বিতর্কও কিছু কম হয়নি।

তবে তাঁর এই বই ‘কেন রাম মন্দির প্রয়োজন নয়’ তা নিয়ে চরমে উঠেছে বিতর্ক। বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী কেএস ভগবানকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দিয়েছে। অনেক গোষ্ঠী আবার ওই লেখকের দেহ টুকরো টুকরো করে ফেলার হুমকিও দিয়েছে। কর্ণাটকের মাণ্ডিয়া এলাকার বিজেপি নেতা শিবকুমার আরাধ্যা এবং সিটি মঞ্জুনাথ লেখক ভগবানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।

কর্ণাটক পুলিশ সমগ্র ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। লেখক কেএস ভগবান পুলিশের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করলে তা মঞ্জুর করেছে ওই রাজ্যের পুলিশ। যা নিয়েও শুরু হয়েছে বিতর্ক। বেঙ্গালুরুর এক আইনজীবী রাজেন্দ্র বলেছেন, “সাধারণ মানুষের করের টাকায় কেন একজন অভিযুক্তকে নিরাপত্তা দেওয়া হবে। যে বারবার মানুষের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করে।”

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।