সুশান্ত মণ্ডল: তিনি ভারতীয় ফুটবলের কিংবদন্তি৷ বাঙাল হয়েও তিনি ছিলেন মোহনবাগান অন্তপ্রাণ!

ভারতীয় ফুটবলের মহীরুহ গোষ্ঠ পালের পুরস্কার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ প্রাক্তন মোহনবাগান সচিন অঞ্জন মিত্রের বিরুদ্ধে৷ গুরুতর এই অভিযোগ এনেছেন কিংবদন্তি ফুটবলারের পুত্র নীরাংশু পাল৷ বাবার ইচ্ছেপূরণ করতে সমস্ত পুরস্কার ও পদক মোহনবাগান ক্লাবকে দান করেছিলেন গোষ্ঠ পালের ছেলে নীরাংশু পাল৷ তৎকালীন মোহন সচিব অঞ্জন মিত্র গ্রাউন্ড সচিবকে দিয়ে লিখিতভাবে গোষ্ঠ পালের ছেলের কাছে থেকে পদ্মশ্রী মেডল-সহ বেশ কিছু পদক, ট্রফি এবং দুষ্প্রাপ্য ছবি-সহ মোট ১৯টি জিনিস নিয়েছিলেন৷ ক্লাবে মিউজিয়াম তৈরি করে সে গুলি রাখার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন অঞ্জনবাবু৷

ভিডিও দেখতে ক্লিক করুন…

অঞ্জন মিত্রের বিরুদ্ধে গোষ্ঠ পালের পুরস্কার কুক্ষিগত করার অভিযোগ

অঞ্জন মিত্রের বিরুদ্ধে গোষ্ঠ পালের পুরস্কার কুক্ষিগত করার অভিযোগবিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন https://bit.ly/2C27KeX

Kolkata24x7 यांनी वर पोस्ट केले सोमवार, २५ फेब्रुवारी, २०१९

কিন্তু দীর্ঘ ২৭ বছর কেটে গিয়েছে৷ মোহনবাগানে এখনও শোভা পায়নি কিংবদন্তি এই ফুটবলারের স্মৃতিবিজরিত জিনিসগুলি৷ বাবার ইচ্ছেপূরণ না-হওয়ায় নিজেকে তাই অপরাধী মনে করছেন নীরাংশুবাবু৷ কলকাতা২৪x৭-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে নীরাংশু পাল জানান, ‘বাবার ইচ্ছেপূরণ করতে ১৯৯২ সালে বাবার জন্মদিনে তৎকালীন মোহনবাগান সচিব অঞ্জন মিত্রের হাতে পদ্মশ্রী-সহ বাবার সমস্ত পদক এবং দুষ্প্রাপ্য বেশ কিছু ছবি এবং সব ট্রফি তুলে দিয়েছিলাম৷ ক্লাবে মিউজিয়াম তৈরি করে সেগুলি রেখে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল৷ কিন্তু ২৭ বছর কেটে গেলেও তা নিয়ে কিছুই করা হয়নি৷’

অতীতে এ নিয়ে মোহন সচিবের কাছে জানতে চাইলে তিনি কখনও ফের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কখনওবা এড়িয়ে গিয়েছেন৷ অবশেষে তাই জীবনের সায়াহ্নে দাঁড়িয়ে মিডিয়ার শরণাপন্ন হয়েছেন ৮০ ছুঁই ছুঁই নীরাংশু বাবু৷ আক্ষেপ ও অভিমানের সুর তাঁর গলায়৷ গোষ্ঠ পাল পুত্র বলেন, ‘ভাবিনি বাবার সন্মানকে নিয়ে এভাবে ছেলেখেলা করা হবে৷’ শুধু তাই নয়, অঞ্জন মিত্রের বিরুদ্ধে বাবার পুরস্কারগুলো কুক্ষিগত করে নেওয়ার অভিযোগ তুলে নীরাংশু পাল বলেন, ‘অনেকদিন আগে একটি কাগজের দেখেছিলাম বাবার পুরস্কার গুলো অঞ্জন মিত্রের বাড়িতে শোভা পাচ্ছে৷ তবে আমি আশা করব মোহনবাগানের বর্তমান প্রশাসক এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে৷’

যাঁরা বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি অবশ্য অসুস্থতার কারণে কথা বলতে অস্বীকার করেন৷ তবে মোহনবাগানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট গীতানাথ গঙ্গোপাধ্যায় (গাঙ্গুলি) অবশ্য লিখিত আবেদন পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন৷ তিনি বলেন, ‘গোষ্ঠ পাল সম্পর্কে আমাদের শ্রদ্ধা ছিল, এখনও রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে৷ গোষ্ঠ পালের মতো কিংবদন্তির নাম মোহনবাগান ক্লাবের সঙ্গে উচ্চারিত হয়৷ সুতরাং তাঁর পুরস্কার গুলি ক্লাবে মিউজিয়াম করে রাখতে পারলে আমি সবচেয়ে খুশি হব৷ কিন্তু এই মুহূর্তে সেগুলি কোথায় রয়েছে আমার জানা নেই৷ তবে আমাদের কাছে লিখিত আবেদন করলে বিষয়টি নিয়ে আমি টুটুর (স্বপনসাধন বসু) সঙ্গে কথা বলে কমিটিতে আলোচনা করব৷ প্রয়োজনে তদন্ত কমিটিও গঠন করা হবে৷’

বাংলাদেশের ফরিদপুরে জন্ম হলেও মোহনবাগান অন্তপ্রাণ ছিলেন গোষ্ঠ পাল৷ মাত্র ১৬ বছর বয়সে ১৯১২ সালে মোহনবাগানে সই করেন৷ খেলে গিয়েছেন ১৯৩৬ সাল পর্যন্ত৷ টানা ২৪ বছর ঘটিদের ক্লাবে খেলার মাঝেই ইস্টবেঙ্গলের দেওয়া প্রচুর টাকার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন বিনা দ্বিধায়৷ ফিরিয়ে দিয়েছিলেন ইংরেজদের দেওয়া চৌধুরি পদবিও৷ নীরাংশুবাবু বলেন, ‘আমাদের পদবি পালচৌধুরী। ইংরেজদের কাছ থেকে চৌধুরী পদবি পেয়েছিলাম। তখন দেশে ইংরেজ শাসন। বাবা ইংরেজদের দেওয়া চৌধুরী পদবি কোনওদিন ব্যবহার করেননি।’

মোহনবাগানের পাশাপাশি ভারতীয় ফুটবল দলকেও নেতৃত্ব দিয়েছেন গোষ্ঠ পাল৷ দুরন্ত ডিফেন্সের জন্য ‘চিনের প্রাচীর’ ডাক নাম ছিল তাঁর৷ ১৯৬২ সালে ভারতের প্রথম ফুটবলার হিসেবে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হন গোষ্ঠ পাল। ধুতি-পঞ্জাবি পরেই রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদের হাত থেকে এই সম্মান গ্রহণ করেছিলেন তিনি। তাঁর নামে চালু হয় ডাক-টিকিটও৷ পদ্মশ্রী-সহ বাবা স্মৃতিবিজরিত বিভিন্ন ট্রফি ও পুরস্কার খুঁইয়ে আজ চোখে জল গোষ্ঠ পাল পুত্রের৷