শংকর দাস, বালুরঘাট: টাকা পয়সা বা ক্ষতিপূরণ নয়। আগে চাই প্রতিশোধ, যাতে ভবিষ্যতে আর এই ধরণের ঘটনা ঘটানোর সাহস জঙ্গি সংগঠন ও পাকিস্তান দেখাতে না পারে। কাশ্মীরের ঘটনার ক্ষোভে গোটা দেশের মানুষ যখন বদলার দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন তখন একইভাবে প্রত্যাঘাতের জোরালো দাবি তুলেছেন বছর তিনেক আগে শহিদ সিআরপিএফ জওয়ান পলাশ মণ্ডলের মা বাবা সহ গোটা পরিবার। তাঁদের দাবি শুধু শোক পালন ও মোমবাতি জ্বালালেই হবে না। প্রতিশোধের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদীদের সমূলে নিকেশ করতে হবে।

২০১৬ সালের ১৮ জুলাই বিহারের ডুমরি নালা এলাকায় মাওবাদীদের হামলায় শহিদ হয়েছিলেন মোট সিআরপিএফ ২০৫ ব্যাটালিয়নের ১১ জওয়ান। তাঁদের মধ্যে ছিলেন দক্ষিণ দিনাজপুরের তপন থানার সালাস গ্রামের পলাশ মণ্ডলও। সরকার বা অন্য কোন সংস্থা নয়, পরিবারের নিজের খরচে বাড়ির সামনে তপন-গঙ্গারামপুর রাজ্য সড়কের ধারে সু-উচ্চ মর্মর মূর্তি স্থাপিত হয়েছে।

প্রতিদিন সকাল সন্ধ্যা সেই বেদিতে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে নিজেদের গর্বিত বোধ করেন শহিদ পরিবারের সদস্যরা ও প্রতিবেশীরা। ডুমরি নালার ঘটনায় শহিদদের পরিবারকে কয়েক লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়েছে কেন্দ্র সরকার। পুলওয়ামার ঘটনায় পলাশের পরিবারের দাবি ক্ষতিপূরণই সব নয়। যে আত্মবিশ্বাস নিয়ে জওয়ানরা শহিদ হয়েছে। সেটাকে যেন যথাযোগ্য সম্মান দেওয়া হয়। বিষয়টিকে নিয়ে যেন কোনও ভাবেই কেউ রাজনীতি না করেন। শত্রুপক্ষ ও সন্ত্রাসবাদীদের যেন সমুচিত শিক্ষা দিতে হবে বলেও তাঁদের দাবি।

বৃহস্পতিবার রাতে টিভি চ্যানেলের খবর কাশ্মীরের পুলওয়ারা এলাকায় সেনা কনভয়ে আত্মঘাতী হামলার ঘটনা জানার পর থেকে আরও বেশি করে শোকাতুর হয়ে পড়েছেন শহিদ পলাশের মা শেফালি মণ্ডল। সারারাত তিনি কেঁদেই কাটিয়েছেন। শুক্রবার সকালে শহিদ পলাশের বাড়ি গেলে তাঁর মা শেফালী মণ্ডল বলেন, আড়াই বছর আগে তিনি ছেলেকে দেশের নিরাপত্তায় বলী দিয়েছেন। তাঁর মতো বৃহস্পতিবার কাশ্মীরের ঘটনাতেও আরও কত মায়ের আঁচল খালি হয়ে গিয়েছে। আর দেরি নয় এবার উচিত শিক্ষা দেওয়ার সময় এসে গেছে।

কাশ্মীরের ঘটনার প্রতিশোধ অবশ্যই নিতে হবে দেশকে। যাতে আর এই ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়। পাশাপাশি তিনি কথাও জানিয়েছেন যে তাঁর মতো আরও যে সকল মায়েরা তাঁদের বীর সন্তানদের হারালেন। ক্ষতিপূরণ বাবদ তার প্রতিদান কখনোই টাকা পয়সা দিয়ে পূরণ হতে পারে না। কোনোরূপ রাজনীতির ধ্বজা না উড়িয়ে শহিদদের এবং পরিবারগুলির প্রতি যোগ্য সম্মান যেন সরকার ও রাজনৈতিক নেতারা দেন এটাই তাঁর একমাত্র প্রার্থনা।