স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: অবৈধভাবে মহানন্দা নদীতে নৌ-পাড়াপাড়ের সময় গত ৩ অক্টোবর পঞ্চমীর রাতে মহানন্দপুর ঘাট থেকে মহানন্দা নদী পার হয়ে ইটাহারের মুকুন্দপুর ঘাটে যাওয়ার সময় প্রায় ৫০ জন যাত্রী বোঝাই একটি নৌকা মাঝ নদীতে উল্টে যায়। জানা গিয়েছে, সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও সরকারি টেন্ডার ছাড়াই অবৈধভাবে মহানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের জগন্নাথপুর ঘাটে চলছিল নৌ-পাড়াপাড়ের কারবার। যা সম্পূর্ণ কংগ্রেস পরিচালিত পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ওবাইদুল্লা চৌধুরীর নেতৃত্বে এই কাজ হচ্ছিল বলে অভিযোগ জানিয়েছেন, মন্ত্রী তথা তৃণমূল দলের মালদার পর্যবেক্ষক গোলাম রাব্বানী।

সূত্রের খবর, সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও সরকারি টেন্ডার ছাড়াই অবৈধভাবে চলছিল নৌ-পাড়াপাড়ের কারবার। যা সম্পূর্ণ কংগ্রেস পরিচালিত পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির নেতৃত্বে এই কাজ হচ্ছিল বলে জানা গিয়েছে। এদিকে এই দুর্ঘটনার পর নৌকার মাঝি, ঘাট মালিক এবং চাচোল ১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে মহকুমা পরিবহন দপ্তর থেকে চাচোল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।

জানা গিয়েছে, পঞ্চায়েত সভাপতির বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগপত্রে চাচোল মহকুমা পরিবহন দপ্তর থেকে কংগ্রেস পরিচালিত ওই পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে চাচল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। নদীতে দুর্ঘটনার পরে রাজ্য মহিলা কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান তথা তৃণমূলের জেলা সভাপতি মৌসুম নুর বলেন, যারা মহানন্দা নদীর ওই ঘাটে অবৈধ ভাবে নৌ চলাচলের অনুমতি দিয়েছিলো তাদের বিরুদ্ধে করা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। এই ঘটনায় সেদিন‌ নয় জনের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, যার বিরুদ্ধে অভিযোগের তীর উঠেছে এদিন তাকে ফোন করা হলে ফোন বন্ধ থাকায় কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি ওই স্থানীয় কংগ্রেস নেতা তথা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ওবাইদুল্লাহ চৌধুরীর। এই বিষয়ে জেলা কংগ্রেস সভাপতি মোস্তাক আলম বলেন, ‘এই ঘাটগুলি পঞ্চায়েত দপ্তরের অধীনে ফলে ঘাটের ব্যাপারে পরিবহণ দপ্তরের কোনও ভূমিকা নেই’ ৷ জানা গিয়েছে, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগেও ওই পঞ্চায়েত সমিতিটি তৃণমূলের হাতেই ছিল ৷ সেই সময়ই ঘাটটি লিজ দেওয়া হয় ৷ আসলে মালদা জেলা প্রশাসন নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে মিথ্যে মামলা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি৷

সূত্রের খবর, ওই ঘাটটি নতুন করে লিজ করার দায়িত্ব বিডিও’র ৷ অথচ দলের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। এর তীব্র প্রতিবাদ করছি বলে জানায় মালদহ জেলা কংগ্রেস সভাপতি মোস্তাক আলম। এদিকে জানা গিয়েছে, এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে আগামী ১৪ অক্টোবর চাচোল থানা ঘেরাও-এর ডাক দিয়েছে মালদহ জেলা কংগ্রেস।