স্টাফ রিপোর্টার, পূর্ব বর্ধমান: নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিনের হিসাব জমা দেওয়ার কথা, কিন্তু বাস্তবে তা করতে না পারায় পূর্ব বর্ধমান জেলার তিন প্রার্থীকে মোটিশ ধরালো নির্বাচন কমিশন৷ পূর্ব বর্ধমান জেলার রিটার্নিং অফিসার তথা জেলাশাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তব জানান,প্রার্থীদের দৈনন্দিন খরচের হিসাব দেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু পূর্ব বর্ধমান লোকসভা আসনের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সুনীল মণ্ডল, বিজেপি প্রার্থী পরেশচন্দ্র দাস এবং বর্ধমান দুর্গাপুর লোকসভা আসনের এসইউসিআই প্রার্থী সুচেতা কুণ্ডুকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাপের পারদ চড়েছেন৷ এদিকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সুনীল মণ্ডল নিজেরই দলের কর্মীদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন৷ তিনি বলেন, তাঁর পক্ষ সমস্ত দিককে নজর রাখা সম্ভবপর না হওয়য়ায় তিনি দলের কর্মীদের দায়িত্ব দিয়েছিলেন কিন্তু তারাই সেই দায়িত্ব পালন করেনি ঠিকমতো৷ তাই রায়নায় প্রচারের কাজ সম্পূর্ণ না করেই তিনি ফিরে আসেন৷

এদিকে পূর্ব বর্ধমানে বিজেপি প্রার্থী পরেশচন্দ্র দাস জানান, তিনি নোটিশ পেয়েছেন৷ আগামী ২২ এপ্রিল তিনি হিসেব দেবেন৷ অন্যদিকে, সুচেতা কুন্ডুক্ষোভ উগরে দিয়ে নির্বাচন কমিশনেরই দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন৷ তিনি বলেছেন, দুটি দফার সুষ্ঠু ভোট করানোর ব্যবস্থা করার দিকে নির্বাচন কমিশনের কোনও চিন্তা নেই, কিন্তু প্রার্থীদের ব্যয়ের হিসেব নিয়ে তারা খুবই চিন্তিত৷

তিনি আরও জানান, নিয়ম মেনেই তাঁর ইলেকশন এজেণ্ট ঝর্ণা পাল হিসেব দাখিল করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সকাল ১০ টা থেকে দুপুর আড়াইটে পর্যন্ত তিনি বসে থাকলেও তাঁর কাছ থেকে হিসেব নেওয়া হয়নি। হয়রানির শিকার হয়েছেন তিনি। গোটা বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের দেখা প্রয়োজন বলেও দাবি তাঁর৷ এদিকে,জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব বর্ধমান লোকসভা আসনের ভারতীয় ন্যায় অধিকার রক্ষা পার্টির প্রার্থী বিপ্লব মিস্ত্রী এবং বহুজন সমাজ পার্টির প্রার্থী রামকৃষ্ণ মালিককেও হিসাব দাখিল না করার জন্য নোটিশ পাঠানো হয়েছে। জানানো হয়েছে, এই ভুল ফের করলে তাঁদের বিরুদ্ধে নির্বাচন বিধি অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য,লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে কেন্দ্রীয়বাহিনীর উপস্থিতির দাবি প্রথম থেকেই জানিয়ে এসেছে গেরুয়া শিবির৷ তবে বাস্তবে সর্বত্র কেন্দ্রীয়বাহিনীর উপস্থিতি নজরে পড়েনি বলেই খবর৷ তবে বৃহস্পতিবার রাতে বর্ধমান শহরে দু কোম্পানির আধা সামরিক বাহিনী এসে উপস্থিত হয়৷ শুক্রবার সকাল থেকেই তারা বিভিন্ন অঞ্চলে বিভক্ত হয়ে রুট মার্চ করবে৷