স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: আচমকা ভোট ঘোষণায় কার্যত দিশেহারা বিরোধী শিবির৷ ফলে কেন রাজ্য সরকার তড়িঘড়ি পঞ্চায়েত ভোটের দিনক্ষণ এভাবে আচমকা ঘোষণা করে দিল, তা নিয়েই ময়নাতদন্ত চলছে সিপিএম থেকে বিজেপি, কংগ্রেস, সব শিবিরেই৷

আর সেই কাটাছেঁড়া থেকে যা উঠে আসছে, তার নির্যাত এককথায় ভয়ঙ্কর৷ বিজেপি থেকে সিপিএম, কংগ্রেস সকলেই বলছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথাতেই এখন নির্বাচন কমিশন চলছে৷ তাই এভাবে বিরোধীদের আপত্তি উড়িয়ে ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হল৷

আরও পড়ুন: আসানসোল-রানিগঞ্জের ২১৮ জন পরীক্ষার্থীর শিক্ষাবর্ষ সুরক্ষায় বাম-আর্জি

যদিও শাসক শিবির একথা মানতে নারাজ৷ নবান্ন সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার কমিশনের কাজে হস্তক্ষেপ করে না৷ আর তা করা উচিতও নয়৷ তৃণমূলও যে শান্তিপূর্ণ ভোট চায়, তাও জানিয়েছেন দলের সর্বোচ্চ নেত্রী৷ তাঁর মতে বিরোধীদের গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই লড়াই করা উচিত৷

কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে একেবারেই আমল দিতে নারাজ বিরোধীরা৷ প্রত্যেকেরই বক্তব্য, রাজ্য সরকারের নির্দেশে এই ভোট ঘোষণা৷ কারণ, বৃহস্পতিবার সর্বদলীয় বৈঠক হয়েছিল৷ সেখানে কোনও তারিখ নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি৷ তার উপর মে মাসে ভোট নিয়ে সমস্ত বিরোধী নেতাই ওই বৈঠকে আপত্তি তুলেছিলেন৷ অথচ দু’দিনের মধ্যেই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়ে গেল৷ তাই বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু সরাসরি জানিয়েছেন, ‘‘নির্বাচন কমিশন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বশ্যতা স্বীকার করে নিয়েছে৷’’

আরও পড়ুন: ভোট আসে ভোট যায়, জঙ্গলমহলের গ্রাম থাকে অন্ধকারেই

যদিও এতে পিছিয়ে যেতে নারাজ বিরোধীরা৷ তারা ভোটে লড়তে প্রস্তুত৷ সেই লড়াইয়ে বাংলার মানুষ শাসক দলের এই স্বেচ্ছাচারিতার জবাব দেবেন বলেই বিশ্বাস সিপিএমের৷ অন্যদিকে বিজেপিও লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়ে দিয়েছে৷