উন্নাও: ধর্ষণের অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ এফআইআর নিতে চায় না। গোটা উত্তরপ্রদেশজুড়ে ছবিটা কার্যত একই। এর মাঝেই উন্নাওতে এক মহিলা পুলিশের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনেছেন। তিনি জানান, কিছু ব্যক্তি তাঁকে উতক্ত্য করলে তাঁদের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর দায়ের করতে যান তিনি। কিন্তু অভিযোগ না নিয়েই ফিরিয়ে দেয় পুলিশ। ‘ধর্ষণ তো হয়নি। হলে দেখা যাবে,’ ঠিক এই ভাষাতেই অভিযোগকারিণীকে ফিরিয়ে দেয় যোগী রাজ্যের পুলিশ।

ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশের উন্নাওয়ে সিন্দুরপুর গ্রামের। হায়দরাবাদ, উন্নাও-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক ধর্ষণের ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে নাগরিক সমাজ। এই অবস্থায় অভিযোগকারিণীর প্রতি পুলিশের এ হেন মন্তব্যে নতুন করে ছড়িয়েছে উন্নাওতে। ওই মহিলার অভিযোগ, কয়েক মাস আগে ওষুধ কিনতে বেরিয়েছিলেন তিনি। গ্রামেরই পাঁচ যুবক তাঁর পোশাক ধরে টানতে শুরু করে। ধর্ষণেরও চেষ্টা করে তারা।

এই অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি ওষুধ কিনতে দোকানে যাচ্ছিলাম, তিনজন এসে আমার পোশাক ধরে টানাহেঁচড়া শুরু করে। আমাকে ধর্ষণের চেষ্টাও করে।’ অভিযুক্তদের মধ্যে রাম মিলন, গুড্ডু ও রাম বাবু নামে তিন যুবককে চিহ্নিতও করেছিলেন ওই মহিলা। কিন্তু অভিযোগ নেওয়ার পরিবর্তে স্থানীয় বিহার থানার এক পুলিশকর্মীর নিদান, ধর্ষণ হলে তার পরে পরে বরং থানায় আসুন। এ বার উন্নাও থানায় যান ওই মহিলা। সেখান থেকেও ফিরিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে। শুধু থানা নয়, টোল ফ্রি নম্বরে ফোন করেও সুরাহা মেলেনি বলে অভিযোগ মহিলার। তিনি বলেন, ‘ঘটনার পরে ১০৯০-এ ফোন করা হলে ১০০-য় ফোন করতে বলা হল। সেই মতো ১০০ নম্বরে ফোন করতে বলা হল স্থানীয় স্তরে অভিযোগ জানাতে।’ এখনও প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছেন তিনি।

উন্নাওতে নির্যাতিতাকে আদালতে যাওয়ার পথে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর করে জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ বাড়ছিল। গত শুক্রবার দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে মৃত্যু হয় ওই নির্যাতিতার। এরপরেই উন্নাও থেকে দিল্লি ক্ষোভের আঁচ ক্রমশ বেড়েছে। এর মাঝেই পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার এই ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে উন্নাওয়ের সিন্দুপুরে।

হুমকি দিয়ে তাঁর বাড়িতে নিয়মিত চড়াও হচ্ছে ওই যুবকরা। এই অবস্থায় মহিলার প্রশ্ন, বড় বিপদের আগে সুবিচার মিলবে কি?

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ