দেবময় ঘোষ, কলকাতা: ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে সব থেকে কঠিন পরাজয়ের মুখোমুখি হয়েছে সিপিএম। পার্টির পলিটব্যুরো এবং পশ্চিমবঙ্গ সিপিএমের তরফ থেকে পরাজয় স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে।
প্রেস বিবৃতিতে পলিটব্যুরো জানিয়েছে, হারের কারণ অনুসন্ধান করে শিক্ষা নিতে হবে।

সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র জানিয়েছেন, ভারতের নির্বাচনী ইতিহাসে বামপন্থী, ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক শক্তির নজিরবিহীন বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে। পশ্চিমবঙ্গের সংসদীয় নির্বাচনের ইতিহাসে আসন এবং ভোটের শতাংশে এত বড় এবং শোচনীয় পরাজয় বামপন্থীদের হয়নি।

বিকেলে কলেজে স্ট্রিটের মোড়ে দাঁড়িয়ে এক এসএফআই কর্মী হতাশা চেপে রাখলেন না “কমরেড সীতারাম যেন বলছিলেন আমরা মেসির মতো চমকে দিয়ে গোল করবো। সিপিএমের পোস্টের নীচে যে গোলকিপার নেই তা খেয়াল ছিল না হয়তো।”

গণনা শেষ হয়নি। কিন্তু বামেদের নিয়ে হাল ছেড়েছেন বামপন্থীরাই। বাম ভোট কোথায় গেল? প্রশ্ন উঠেছে। জনপ্রিয় মত, বাম ভোট পেয়েছে বিজেপি। ওই ভোটব্যাংক কাজে লাগিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভোটের ময়দানে বেকায়দায় ফেলেছে গেরুয়া শিবির। এক্সিট পোলের ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই এই ধারণাকে পাল্টা আক্রমণের রাস্তায় হেঁটেছে বামেরা। কিন্তু সেই প্রতিবাদ ফেসবুকেই সীমাবদ্ধ ছিল। কার্যক্ষেত্রে বামভোট বিরোধী শিবিরে যাওয়া আটকাতে পারেনি সিপিএম।

পরিসংখ্যান:-

২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে বামফ্রন্ট ২২.৯৬ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। ২০১৯ এর নির্বাচনে বাম ভোট মাত্র ৬.৭৭ শতাংশ ( গণনা শেষ হয়নি)

২০১৪ সালে বামফ্রন্ট মুর্শিদাবাদ এবং রায়গুঞ্জ কেন্দ্রে জয়লাভ করেছিল। ২০১৯ সালে খাতা খুলতে পারেনি।

২০১৪ সালে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ৩৯.৭৯ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। ২০১৯ সালে তৃণমূলের ভোট ৪৩ শতাংশ। ২০১৪ এলে রাজ্যে ৩৪ জন সাংসদ পেয়েছিলো তৃণমূল। ২০১৯ সালে ২২ জন সাংসদ পেয়েছে তৃণমূল।

২০১৪ সালে রাজ্যে বিজেপি রাজ্যে ১৭ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। আসানসোল এবং দার্জিলিংয়ে দুই সাংসদ ছিল। ২০১৯ সালে বিজেপি ৪০ শতাংশ ভোট পেয়ে ১৮ জন সাংসদ রাজ্য থেকে নিশ্চিত করেছে।

রাজ্যে বিজেপির ২৩ শতাংশ ভোট বাড়লো কি করে। বৃহস্পতিবার রাতে উত্তর খুঁজতে বসেছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। কারণ সেই হিসাবের সঙ্গেই বামেদের প্রায় নিশ্চিহ্ন হওয়ার সমীকরণ লুকিয়ে রয়েছে। বিমান বসু-সূর্যকান্ত মিশ্ররা যা ভালোই জানেন।

১৯৯৭ সালে জ্যোতি বসুর বিখ্যাত উক্তি, ‘ঐতিহাসিক ভুল’ এখনো সিপিএমকে নাড়া দেয়। ২০১৯ সালের এই হারকেও ঐতিহাসিক আখ্যা দিচ্ছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।