বিশেষ প্রতিবেদন: বাংলাদেশের সর্বত্র তো বটেই এমনকি পশ্চিমবঙ্গেও এখন ছড়িয়েছে নিষিদ্ধ মাদক ইয়াবা৷ সুদূর মায়ানমার থেকে বাংলাদেশ হয়ে ভারত পর্যন্ত এই মাদক কারবারিদের জাল বিছিয়ে রয়েছে৷ একাধিক ইয়াবা পাচারকারী ধরা পড়েছে৷ কিন্তু ব্যবসা চলছে দেদার৷ তবে বাংলাদেশ সরকার ইয়াবা মাদক পাচারের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়ায় অভিনব কায়দা নিচ্ছে পাচারকারীরা৷ ঢাকার সংবাদ মাধ্যমের খবর, লাল-গোলাপি ট্যাবলেটের বদলে এখন ভিন্ন রঙের ইয়াবা তৈরি করে পাচার হচ্ছে৷ দেখতে ওষুধের মতো বলে তাতে ধোঁকা লাগছে প্রথমেই৷

বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিবি) কাছে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য৷ দেখা গিয়েছে সাদা-হলদে-ঘিয়ে রঙের ইয়াবা ট্যাবলেট তৈরি হচ্ছে৷ সেই মাদক মায়ানমার সীমান্ত পেরিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী টেকনাফ-কক্সবাজার হয়ে ঢুকে পড়ছে বাংলাদেশে৷ মূলত এই পথেই থাইল্যান্ড ও মায়ানমার থেকে বাংলাদেশে ঢোকে গোলাপি রঙের ইয়াবা৷ সংবাদ মাধ্যমে তা বহুল আলোচিত হওয়ার সুবাদে যে কেউই এক ঝলকে চিনতে পারেন৷ এবার সেই ইয়াবা বড়ির আকার ও রং বদলে দিয়ে চোরাচালানের অভিনব পন্থা নিয়েছে ড্রাগ মাফিয়ারা৷ঢাকার প্রথম সারির ওয়েব সংবাদ মাধ্যম ‘বাংলা ট্রিবিউন’ ইয়াবা বড়ির রঙ পরিবর্তন সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে৷ তাতে জানানো হয়েছে, এই কারবারের সঙ্গে পুলিশের সোর্সরা বেশি জড়িত। ইয়াবার কারবারিরা টেকনাফ ও উখিয়া থেকে ইয়াবা নিয়ে আসে। পরে কক্সবাজার শহরে পর্যটকদের কাছে তা বিক্রি করা হয়। আর বড় চালানগুলো ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

ইয়াবা কী ?

Ya ba অথবা ইয়াবা হল এক ধরণের উত্তেজক বড়ি৷ এটি মূলত শরীরে উদ্দীপনা তৈরি করে৷ থাইল্যান্ডের ভাষায় ইয়াবা আর তার বাংলা করলে হল পাগলা ওষুধ৷ এটি খেলে অনেক ধরণের সমস্যা হয় যেমন গায়ের চামড়ার নিচে কোনও পোকামাকড় নড়াচড়া করে মনে হয়। প্রথমদিকে ইয়াবা যৌন উত্তেজক বড়ি হিসাবে বাজারে পরিচিত ছিলো। কিন্তু দীর্ঘদিন সেবনের ফলে যৌন ক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হেরোইনের চেয়েও ভয়াবহ। নিয়মিত ইয়াবা সেবন করলে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরন, নিদ্রাহীনতা, খিঁচুনি, ক্ষুধামন্দা এবং মস্তিষ্ক বিকৃতি দেখা যেতে পারে।

পাচার রুট:

থাইল্যান্ড থেকে মায়ানমার হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের পথ ধরে বাংলাদেশের রাজশাহী পর্যন্ত আনা হয় ইয়াবা৷ তারই মাঝে বাংলাদেশের অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ে এই মাদক৷ রাজশাহী থেকে সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মালদহ ঢুকে পড়ে এই মাদক৷ কিছু ক্ষেত্রে অসমের দিকেও হয় চালান৷ বিশেষ করে বাংলাদেশ সংলগ্ন বিভিন্ন ভারতীয় রাজ্যের (মেঘালয়, ত্রিপুরা, মিজোরাম) উপজাতিদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে এই মাদক৷ সম্প্রতি কয়েকটি ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গে ধরা পড়ছে কয়েকজন ইয়াবা পাচারকারী৷

নিষিদ্ধ মাদক ইয়াবা যেভাবে বাংলাদেশে ছড়িয়েছে তাতে চিন্তিত দেশটির সরকার৷ মায়ানমার সীমান্ত সংলগ্ন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কড়া অবস্থান নিয়েছে৷ চলছে অভিযান৷ বাংলা ট্রিবিউন-কে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন বলেন, ‘ইয়াবা পাচার ঠেকাতে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি, র‌্যাব সহ গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন সক্রিয় রয়েছে। আগের চেয়ে ইয়াবা পাচার কমে এসেছে। ইয়াবা পাচারের সঙ্গে কোনও সদস্য বা সোর্স জড়িত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘মাদক ব্যবসায়ীদের আত্মসমর্পণের উদ্যোগটি ভালো। ইয়াবা পৃষ্ঠপোষকরা আত্মসমর্পণ করলে এর প্রভাব সহযোগীদের ওপর পড়বে। তখন ইয়াবা সহ মাদক ব্যবসা কমে আসবে বলে আশা করি।’