কলকাতা : রাজ্যে ফের হতে চলেছে ছাত্রভোট। দীর্ঘ আড়াই বছর পর অবশেষে বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ছাত্রভোটের সিদ্ধান্ত নিল শিক্ষা দফতর। আপাতত চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ভোটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য। এই চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে রয়েছে যাদবপুর, রবীন্দ্রভারতী, প্রেসিডেন্সি ও ডায়মন্ড হারবার বিশ্ববিদ্যালয়।

শিক্ষা দফতরেরর তরফে জানানো হয়েছে, যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কোনও কলেজ নেই তাদের মধ্যে এই চারটি বিশ্ববিদ্যালয়েই হতে চলেছে এই ছাত্রভোট। তবে কবে নাগাদ এই ভোট হবে সে বিষয়ে এখনও কিছু জানা যায়নি। সূত্র জানাচ্ছে, আপাতত এই চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রভোটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও বাকি বিশ্ববিদ্যালয় যেমন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, স্টেট ইউনিভার্সিটি, উত্তরবঙ্গের মতো বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ভবিষ্যতে ছাত্রভোট করার কথা মাথায় রেখেছে শিক্ষামন্ত্রক।

উল্লেখ্য, রাজ্যে বহুদিন ধরেই বারবার ছাত্রভোটের দাবি উঠে এসেছে। যাদবপুর-প্রেসিডেন্সির মত বিশ্ববিদ্যালয়ে তো বটেই, পাশাপাশি বেশ কিছু কলেজেও ছাত্রভোটের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছিল বাম ও গেরুয়া শিবির। লোকসভা ভোটে তৃণমূলের প্রতাপ কিছুটা খর্ব হওয়ার পরেই এই আন্দোলনের ধার আরও বেড়েছিল। এবার সেই সব ইস্যুকে মাথায় রেখেই ছাত্রভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিতে চলল শিক্ষা দফতর।

আরও পড়ুন – আমার ভাটপাড়া পুরবোর্ড বিজেপির হাতছাড়া হবে না: অর্জুন সিং

অনেকে আবার বলছেন প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শেই এহেন সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। তাঁর বুদ্ধিতেই হয়তো হঠাৎ করে গণতান্ত্রিক পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা দফতর।

প্রসঙ্গত, গত কয়েক বছরেই শিক্ষাঙ্গনের মঞ্চ কার্যত বিরোধী শূন্য। উলটে তৃণমূলের আতঙ্ক হয়ে উঠেছিল তৃণমূলই। গোষ্ঠী সংঘর্ষে বারেবারে জেরবার হয়েছে এ কলেজ থেকে সে কলেজ। বারবার দ্বন্দের জেরেই তৃণমূলের অন্দরেই উঠেছে প্রশ্ন।

উল্লেখ্য, এবার যে ভোট হবে তৃণমূল ছাত্র পরিষদকে সেই বার্তা আগেই দিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। মাস দুই আগেই এই নিয়ে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সঙ্গে তার একপ্রস্থ বৈঠক হয় বলেও সূত্র মারফত জানা গিয়েছে। সেই বৈঠকে ছাত্রনেতাদের উদ্দেশ্যে পার্থ বাবু জানিয়েছিলেন, প্রতিটা কলেজে ইউনিট তৈরির কথা। সেই সঙ্গে প্রাক্তনীদের উদ্দেশ্যেও সতর্কবার্তা ছিল শিক্ষামন্ত্রীর। পাশ করে যাওয়া ছাত্রেরা যেন পদ আঁকড়ে পড়ে না থাকে, তার ব্যবস্থা করতে বলেছিলেন তিনি। পাশাপাশি বিরোধীরা যাতে সুস্থ ভাবে মনোনয়ন দিতে পারে সে কথাও বলেছিলেন তিনি। তৃণমূল ছাত্রদের কাছে শিক্ষামন্ত্রীর স্পষ্ট বক্তব্য ছিল, যদি ভোটে হারো, তবে বুঝতে হবে তোমরা ছাত্রদের কাছে পৌঁছতে পারোনি।