মুম্বই: মহারাষ্ট্রের টানটান রাজনৈতিক থ্রিলারে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। প্রতিদিন সকালে উঠেই খবরের কাগজে মহারাষ্ট্রের খবরে চোখ রাখছে সাধারণ মানুষ। শুক্রবার সকালেও দৃশ্যটা অন্যরকম ছিল মারাঠাভূমিতে সরকার গড়তে চলেছে কংগ্রেস-শিবসেনা-এনসিপি।রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হবেন উদ্ধব ঠাকরে।

এই সিদ্ধান্ত প্রায় ঠিক হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ঠিক ওই দিন মধ্যরাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত নাটকের সাক্ষী রইল আরব সাগরের তীরের শহর মুম্বই। এর আগেও নানা চমক এসেছে মহারাষ্ট্রের সরকার গঠনের দৌড়ে। কিন্তু এ দিনের ‘টুইস্ট’-এর চাপ আর নিতে পারেননি পেশায় অধ্যাপক জাহির সঈদ। ছুটি চেয়ে অধ্যক্ষের কাছে আবেদন করেছেন তিনি।

শুক্রবার মধ্যরাতে রাজভবনে গিয়ে উপস্থিত হন দেবেন্দ্র ফডণবীস এবং এনসিপির অজিত পাওয়ার। সংখ্যা গরিষ্ঠতার দাবি করে রাজ্যপাল ভগত সিং কোশিয়ারির কাছে সরকার গড়ার আবেদন জানান। শনিবার সকাল আট’টায় কার্যত চুপিসাড়ে রাজ্যপালের উপস্থিতিতে রাজভবনে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেন দেবেন্দ্র ফডণবীস। এনসিপির অজিত পাওয়ার শপথ নেন উপমুখ্যমন্ত্রী পদে।

শনিবারের সকালে এই খবর শুনেই আঁতকে ওঠেন জাহির। মহারাষ্ট্রের চন্দ্রপুর শহর থেকে ৪৩ কিলোমিটার দূরে গড়চন্দৌরে একটি কলেজে ইংরাজি পড়ান জাহির। কিন্তু, নিজের রাজ্যের এ হেন প্লট থুড়ি পট পরিবর্তনে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।

এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘খবরটা শোনার পর থেকেই আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। আমার রাজ্যে এই রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখে আমি স্তম্ভিত।’ এই বিহ্বলতা কাটাতে অধ্যক্ষের কাছে বেশ কিছুদিনের জন্য ছুটির আবেদন জানান তিনি। কারণ হিসাবে তুলে ধরেন রাজ্যের এই রাজনৈতিক অস্থিরতা। তবে তাঁর এই আবেদন প্রত্যাখান করে দেন ওই কলেজের অধ্যক্ষ। প্রত্যাখাত হলেও ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে ওই অধ্যাপকের আবেদনপত্র।

গত বিধানসভার নির্বাচনী ফলপ্রকাশ হয়েছে ২১ অক্টোবর। ফল ঘোষণার পর কেটে গিয়েছে এক মাস চার দিন। কিন্তু এর মাঝেই শিবসেনা-বিজেপি-এনসিপি-কংগ্রেস মুখ্যমন্ত্রী পদের ইঁদুর দৌড়ে টিকে থাকতে একের পর এক চমক এসেছে মারাঠাভূমিতে। বিজেপি চুপিসাড়ে সরকার গড়লেও এই বিষয়ে শীর্ষ আদালতে মামলা করেছে কংগ্রেস-এনসিপি-শিবসেনা। রবিবারের শুনানিতে কোর্ট জানায় আগামীকাল রাজ্যপালের সরকার গঠনের সম্মতিপত্র প্রকাশ্যে আনাতে হবে। তাই মহারাষ্ট্রের মসনদে বসবেন কে? রায় দেবে সুপ্রিম কোর্ট।