তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: কলকাতা ২৪x৭ খবরের জের৷ অভাবী কিন্তু মেধাবী ছাত্র৷ আপনাদেরও ভীষণ পরিচিত একটি নাম৷ উচ্চ মাধ্যমিকে রাজ্যে দশম স্থানাধিকারী তন্ময় পতি৷ টাকার অভাবে ভবিষ্যতে কত দূর এগোতে পারবে সেই চিন্তা গ্রাস করেছিল তন্ময়কে৷ পরীক্ষার পর থেকে শুধু একটাই চিন্তা ছিল তাঁর৷ তবে তন্ময়ের সেই চিন্তাকে এর পলকে হালকা করে দিল বাঁকুড়া উন্নয়নী ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউটের কর্তৃপক্ষরা৷ আগামী দিনে তন্ময়ের যাবতীয় পড়াশোনার দায়িত্ব তাদের৷ বর্তমানের একটি বহু প্রচলিত সোশ্যাল মিডিয়ায় তন্ময়কে মেসেজ করে জানায় ইন্সটিটিউটের কর্তৃপক্ষরা৷ কিন্তু কেন?

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার কলকাতা ২৪x৭-এ ‘মেধা তালিকায় নাম, তবু উচ্চ শিক্ষায় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে অভাব’ শিরোনামে সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়। তার পর পরই বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থার তরফে ওই কৃতি ছাত্রের পড়াশুনায় সাহায্যে এগিয়ে আসার কথা মৌখিক ভাবে জানাতে থাকে। এরপরেও বড় চমক বোধ হয় অপেক্ষা করছিল বাঁকুড়ার সিমলাপাল মদনমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র তন্ময় পতির জন্য। বাঁকুড়া উন্নয়নী ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের চেয়ারম্যান শশাঙ্ক দত্ত শনিবার কলকাতা ২৪x৭-কে টেলিফোনে ও হোয়াটসঅ্যাপে এই ছাত্রের পাশে দাঁড়ানোর কথা বলেন।

তিনি জানান, তন্ময় চাইলে তাঁদের প্রতিষ্ঠানে বি.টেক (অনার্স) ভর্তি পারে। সে ক্ষেত্রে তাঁর বিষয় পছন্দের সম্পূর্ণ অধিকারও থাকবে। একই সঙ্গে এখানে ভর্তি হলে বিনামূল্যে পড়াশোনার পাশাপাশি থাকা খাওয়ার জন্য হোস্টেলের ব্যবস্থাও করবে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও আগামী দিনে একই ব্যবস্থায় তাঁর এম.টেক করার ব্যবস্থা তাঁরা করবেন বলে শশাঙ্ক দত্ত ঘোষণা করেন। তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে আজই সিমলাপাল মদনমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। পাশাপাশি তন্ময়ের বাবার সঙ্গেও তিনি কথা বলেছেন বলে জানান।

বেসরকারি এই ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ কর্তৃপক্ষের এই ঘোষণায় খুশি তন্ময় ও তাঁর বাবা সুভাষচন্দ্র পতি। টেলিফোনে তন্ময়ের বাবা সুভাষচন্দ্র পতি বলেন, ‘‘ছেলের জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষের এই প্রস্তাব যথেষ্ট আনন্দের।’’ বিষয়টি নিয়ে তন্ময়ের শিক্ষক ও পরিবার আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন। এই উদ্যোগে বাঁকুড়া উন্নয়নী ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং ও কলকাতা ২৪x৭-কে তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন।