নয়াদিল্লি: কাঁপছে উত্তর ভারত৷ সোমবার ১১ বছরের শীতলতম রাত কাটাল জম্মু কাশ্মীর৷ তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ৬.৮ ডিগ্রি৷ ডাল লেকের অধিকাংশ এলাকাই বরফের তলায়৷ শ্রীনগরের তাপমাত্রার সাথে পাল্লা দিচ্ছে অমৃতসরও৷ সেখানে তাপমাত্রা ১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস৷

সোমবার দিল্লিবাসীর ঘুম ভেঙেছে কুয়াশা মোড়া সকালে৷ সঙ্গে ছিল কনকনে ঠাণ্ডা আবহাওয়া৷ তাপমাত্রা ৪.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস৷ উত্তর থেকে বয়ে আসা কনকনে ঠাণ্ডা হাওয়াই আপাতত কাঁপাচ্ছে পশ্চিম, মধ্য ও উত্তর ভারতকে৷ মরসুমের স্বাভাবিক তাপমাত্রা থেকে দিল্লির এদিনের তাপমাত্রা ছিল ৩ ডিগ্রি নীচে৷

একই ভাবে শীতলতা অনুভূত হয়েছে শ্রীনগরে৷ বরফ স্থির ডাল লেক আর তুষারে মোড়া গাছের সারি নিয়ে শ্রীনগর শীতলতম দিনের রেকর্ড ছুঁয়েছে৷ বরফ জমে বন্ধ শহরের জল সরবরাহ প্রক্রিয়া৷ চূড়ান্ত সমস্যায় পড়ে নাজেহাল সাধারণ মানুষ৷

দক্ষিণ কাশ্মীরের কাজিবাদে তাপমাত্রা ছিল হিমাঙ্কের পাঁচ ডিগ্রি নিচে৷ কোকেরনাগ এলাকায় তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ৩.৯ ডিগ্রি নিচে ছিল বলে জানা গিয়েছে৷ একই অবস্থা কুপওয়াড়াতেও৷ সেখানে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ৬ ডিগ্রি নিচে ছিল সোমবার৷

লেহতে তাপমাত্রা রেকর্ড ছুঁয়েছে৷ সেখানে পারদ বলছে তাপমাত্রা মাইনাস ১৪.৭ ডিগ্রি৷ অন্যদিকে কারগিলে মাইনাস ১৫.৩ ডিগ্রি নেমেছে পারদ৷ গোটা জম্মু কাশ্মীর আপাতত চিলাই কালানের আওতায়৷ যা মেয়াদ শেষ হচ্ছে জানুয়ারির ৩১ তারিখ৷ তবে আবহাওয়া দফতরের ধারণা তারপরেও শৈত্যপ্রবাহ জারি থাকবে উপত্যকায়৷ ৪০ দিনের চিলাই কালানের মধ্যে ২০ দিন চিলাই খুর্দ (অপেক্ষাকৃত কম ঠাণ্ডা) ও ১০ দিন চিলাই বাচ্চা (আরও কম ঠাণ্ডা) প্রত্যক্ষ করে ভূস্বর্গ৷

নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহেই প্রথম বরফপাতের আমেজ উপভোগ করে কাশ্মীর৷ তারপরেই শুরু হয় শৈত্যপ্রবাহ৷ এদিকে ঘন কুয়াশায় মোড়া মঙ্গলবার সকালে স্বাভাবিকভাবেই দৃশ্যমানতা কম ছিল৷ ফলে হরিয়ানার ঝাঝর থেকে একটি পথদুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়৷ ১০টি গাড়ি পর পর একে অপরকে ধাক্কা মারে৷ এই শৈত্যপ্রবাহ ও কুয়াশার প্রকোপ আগামী বেশ কয়েকদিন চলবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর৷ এইজন্য বিমান উড়ানেও বেশ প্রভাব পড়েছে৷

দিল্লি বিমানবন্দর থেকে সব বিমানই দেরিতে ছাড়বে বলে জানানো হয়েছে৷ প্রভাব পড়েছে ট্রেন চলাচলেও৷

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব