স্টাফ রিপোর্টর, তমলুক: পদ্মের অভাবে রামচন্দ্রের অকালবোধনের পুজোও একসময় অসমাপ্ত হতে বসেছিল। নিজের চোখ দিয়েই তখন পুজো করতে গিয়েছিলেন রামচন্দ্র। সেই থেকে মহাষ্টমীর সন্ধিপুজোয় আর কিছু থাক বা না থাক, ১০৮ টি পদ্ম চাই-ই চাই। আর মহাপুজোর মহালগ্নে গোটা রাজ্যে প্রয়োজন ১৬ লক্ষ পদ্ম। যার দুই তৃতীয়াংশ যোগান দেয় পূর্ব মেদিনীপুর। জেলার কোলাঘাট, পাঁশকুড়ায় পদ্মচাষের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ফুলচাষিদের একাংশ।

এই জেলারই পদ্মে অভিষিক্তা হন মা দুর্গা। কিন্তু এবার সন্ধিপুজোর ১০৮ টি পদ্মের কী হবে? দোরগোড়ায় চলে এসছে দুর্গাপুজো। বছরের অন্যান্য সময় বিভিন্ন পুজোয় পদ্ম ফুলের চাহিদা কম থাকলেও দুর্গাপুজোয় পদ্মফুলের চাহিদা থাকে সবথেকে বেশি। চাহিদা বুঝে এবারও কোলাঘাট, পাঁশকুড়া, কেশবপুর, হাকোলার বহু চাষি পদ্ম চাষ করেছেন। শরৎকালের শিশিরে তাড়াতাড়ি পচে যায় পদ্মফুল ও পাতা। তাই পরিস্থিতি বুঝে ঝিলে ঝিলে পদ্মকুঁড়ি তোলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন চাষিরা। কিন্তু পুজোর জন্য পদ্ম মজুত করতে পারছেন না তাঁরা। কারণ, পাঁশকুড়া ফুলবাজারের একমাত্র সরকারি ফুল হিমঘরে নেই আদ্রতা নিয়ন্ত্রক যন্ত্র ‘হিউমিডিটিফায়ার’। আর এই যন্ত্র ছাড়া হিমঘরে পদ্ম মজুত রাখা সম্ভব নয়। বিষয়টি একাধিকবার হর্টিকালচার দফতরের নজরে এনেছেন ফুলচাষিরা। কিন্তু লাভের লাভ কিছুই হয়নি।

সম্প্রতি পাঁশকুড়া ফুলবাজারের হিমঘরটি পিপিপি মডেলে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়নি৷ জেলা পরিষদ ও স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতির বোর্ড গঠিত না হওয়ার জন্য। কারণ, পাঁশকুড়া ফুলবাজার ব্যবসায়ী সমিতির পরিচালন কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন জেলা পরিষদ এবং পঞ্চায়েত সমিতির দুই কৃষি কর্মাধক্ষ্য। আর তাঁদের মতামত ছাড়া কোনওভাবেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা যাবে না৷ এমনটাই জানিয়ে দিয়েছেন পাঁশকুড়া ফুলবাজারের চেয়ারম্যান তথা মলুকের মহকুমাশাসক কৌশিকব্রত দে। ফলস্বরূপ হিমঘরে পুজোর আগে আর পদ্ম মজুত রাখার কোনও সুযোগই পাচ্ছেন না ফুলচাষিরা। আর এই পরিস্থিতিতে বিকল্প উপায় খুঁজতে হচ্ছে তাঁদের।

মেদিনীপুরের ফুলচাষি ও ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক নারায়ণচন্দ্র নায়ক বলেন, ‘আমরা চলতি মাসের শুরুতেই সমস্যার কথা মহকুমাশাসককে জানিয়েছিলাম। কিন্তু কোনও ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি। এদিকে পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদের বোর্ড গঠন হতে অনেক দেড়ি আছে। স্বাভাবিকভাবে পুজোর পদ্ম মজুত করতে বেসরকারি হিমঘরের উপর ভরসা করতে হচ্ছে আমাদের।’