সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : ‘দিল লি দিল্লি’ না বলে বলা ভালো ‘চুরাকে দিল মেরা’ গড়িয়া ‘চলি’। কেন? দূষণের হাল হকিকত সেই তথ্যই দিচ্ছে। কড়া ঠাণ্ডা পড়েছে দিল্লিতে। স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটা নীচে কলকাতার তাপমাত্রাও। তারপরেও দিল্লির দূষণ চরম মাত্রায়। তাই হৃদয়ে বিষবায়ু না ভরে ‘দিল’ অর্থাৎ হৃদয় নিয়ে কলকাতার গড়িয়া বা তার আশেপাশেই থাকাই অনেক ভালো। অন্তত সুস্থ বাতাস কলজে ভরে নিয়ে হাঁটাচলা করতে পারবেন।

একটু তথ্য দেওয়া যাক, দিল্লিতে গত এক মাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২৮ নভেম্বর বলা চলে শেষবার অস্বস্তি অনুভূত হয়েছিল রাজধানীতে। তারপর থেকে সেখানকার গড় তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এখন সেখানে শৈত্যপ্রবাহ চলছে। পরিবেশবিদদের মতে, ঠাণ্ডা পড়ার সময় বাতাসে প্রচুর ধূলিকণা জমে। তাই দূষণ বেড়ে যায়। ঠাণ্ডা জাঁকিয়ে বসলে বাতাস থেকে পালায় সে সব ধূলিকণা। কিন্তু কোথায় কি ? দিল্লিতে জাঁকিয়ে বসে রয়েছে শীত। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস কিন্তু ধূলিকণাও জাঁকিয়েই বসে রয়েছে।

দিল্লির আলিপুরে সকালেই দূষণের মাত্রা ৪৪৬, যা শ্বাস নেওয়ার অযোগ্য। একইরকম ভাবে আনন্দবিহারে দূষণের মাত্রা ৪৭২, মথুরা রোডে দূষণের মাত্রা ৪০৮, দ্বারকায় দূষণের মাত্রা ৪৫৩, নয়ডাতে দূষণের মাত্রা ৪২৩, জাহাঙ্গীরপুরীতে দূষণের মাত্রা ৪৭৮, জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়াম অঞ্চলে দূষণের মাত্রা ৪৩৭, লোধি রোডে দূষণের মাত্রা ৩৭৮, মন্দির মার্গে দূষণের মাত্রা ৪২৩, ওখলাতে দূষণের মাত্রা ৪৫৩। সবকটিই লাল দাগ পেরিয়ে গিয়েছে কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের তথ্যের মাপকাঠির বিচারে।

এবার কলকাতার দিকে নজর রাখা যাক। কলকাতায় গত এক মাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৬ নভেম্বর। ওইদিন শহরের তাপমাত্রা ছিল ২০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সময়ের অনুযায়ী যা দুই ডিগ্রি বেশি ছিল বলে জানিয়েছিল হাওয়া অফিস। তারপর থেকে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা শহরের আকাশ ঢেকে রেখেছে। প্রবেশ করতে দেয়নি ঠাণ্ডা বাতাসকে। সেই সময়ে কলকাতার বাতাসে ধূলিকণার জেরে বেড়ে গিয়েছিল দূষণের পরিমাণ। কিন্তু শীতের ঠাণ্ডা হাওয়ার পথ খুলতেই গায়েব হয়েছে দূষণের চাদর। এখন মোটামুটি সুস্থ বাতাস বুকে ঘুরে বেড়াচ্ছে কলকাতার মানুষ। এখন কলকাতার তাপমাত্রা ১০ থেকে ১১ ডিগ্রির মধ্যে রয়েছে। এই জব্বর শীতে কলকাতার বাতাস দূষণমুক্ত।

তথ্য অনুযায়ী বালিগঞ্জের দূষণ মাত্রা ১৭৯, বিধাননগরে দূষণের মাত্রা ১৪৬, ফোর্ট উইলিয়ামে দূষণের মাত্রা ২১২, যাদবপুরে দূষণের মাত্রা ১১৬, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় অঞ্চলে দূষণের মাত্রা ১৮০, রবীন্দ্র সরোবরে দূষণের মাত্রা ১১৭, ভিক্টোরিয়ায় দূষণের মাত্রা ১১৭। দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের বিচারে যা মোটের উপর ভালোই।

এবার বলুন দিল্লি গিয়ে ‘দিল’ ভরতি দূষণ নিয়ে আসবেন না কি, ‘এই বেশ ভালো আছি’ বলে বুক ভরে নেবেন কল্লোলিনীর সুস্থ বাতাস।