বাসুদেব ঘোষ, সিউড়ি: খেলতে খেলতে একটি ২ টাকার কয়েন গিলে ফেলে এক সাত বছরের শিশু৷ বিনা অস্ত্রোপচার করে সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের এক ডাক্তার সেই কয়েন বার করলেন৷ যদিও বিষয়টি সহজ ছিল না৷

দিন কয়েক আগেই কয়েন আটকে গিয়ে আরেক শিশুকে কলকাতায় তিনটি হাসপাতালে ঘুরতে হয়েছিল৷ আর সে ঘটনাকে ঘিরেই গত মাসে তোলপাড় হয়েছিল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর থেকে চিকিৎসক মহল। সেই কাজ সদর সিউড়ির হাসপাতালে হয়ে যাওয়ায় স্বস্তির নিশ্বাস নাজমা খাতুনের পরিবারের।

অন্যদিকে হাসপাতালের নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ অর্ণব দত্ত জানান, কাজটা ঝুঁকিপূর্ন হলেও কিছু বিশেষজ্ঞ চিকিতসক এটা করেন। আমরা বছরে সদরে কমপক্ষে এমন ঝুঁকির কাজ গোটা তিরিশেক করি।

পাড়ুই থানার চৌমন্ডলপুর গ্রামের বাসিন্দা সাত বছরের নাজমা খাতুন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় খেলতে খেলতে একটি দুটাকার কয়েন গিলে ফেলে। সেটি শ্বাসনালি দিয়ে খাদ্য নালির দিকে চলে যাচ্ছিল। তড়িঘড়ি আশঙ্কা জনক অবস্থায় তাকে সিউড়ির সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়৷ গোটা বিষয়টি তত্ত্বাবধান শুরু করেন চিকিৎসক অর্ণব দত্ত৷

চিকিৎসক বলেন পরিবারের লোক ভরসা রেখেছিলেন আমাদের ওপর। কারন কয়েনটি কোনও রকমে ফাঁক গলে গেলেই শ্বাস নালিতে আটকে দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হতে পারত। আবার খাদ্যনালীতে গিয়ে বিপদ ঘটাতে পারত। পাঁচ ঘন্টা শিশুটিকে না খাইয়ে রেখে দিই। রাত গভীর হলে শুরু হয় অস্ত্রোপচার। প্রথমে গলার মধ্যে যন্ত্র পাঠিয়ে সেখানটা ফুলিয়ে দিই। এবার মেশিন দিয়ে কয়েনটা টানতেই সেটা বেরিয়ে আসে। জিভটাকে টেনে ধরে গলার ল্যারিঙ্গাস্কোপ দিয়ে আস্তে আস্তে কয়েনটা বের করে দিই।

নাজমার পরিবার বলেন, এজন্যই চিকিৎসকদের ভগবানের আসনে বসায় মানুষ৷ তার প্রমাণ আবারও মিলল এই ঘটনায়৷