বেঙ্গালুরু: আবারও কর্মীদের উপরে চাপ বাড়াতে চলেছে তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা কগনিজেন্ট৷ কর্মীদের জন্য বেঞ্চ টাইম কমাতে চলেছে এই সংস্থা। যার ফলে আগামী মাসেই কাজ হারাতে পারেন অনেকেই। ৬০ দিন থেকে বেঞ্চ টাইম ৩৫ দিন করাতে অসুবিধার মধ্যে পরেছেন কর্মীরা। ৩৫ দিন পরে যে সকল কর্মীরা কোন রকম প্রোজেক্টের সঙ্গে যুক্ত থাকবে না তাদের বেড়িয়ে যেতে বলা হবে। পাকাপাকিভাবে বেড়িয়ে যাওয়ার এই প্রক্রিয়া শুরু হতে ৬০-৯০ দিন লাগতে পারে বলেও জানা গিয়েছে। অর্থাৎ আবারও কাজ হারানোর আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হল সংস্থার কর্মীদের মধ্যে।

এর আগে প্রজেক্টে যুক্ত হওয়ার জন্য সকল কর্মীরা নির্দিষ্ট সময় পেতেন। যে সকল কর্মীরা কাজের জন্য অন্য শহরে যেতেন তাদের কিছুটা সময় লাগত সেখানকার পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য। এবার থেকে তা আর পাওয়া যাবে না বলে জানা গিয়েছে। এর ফলে পরোক্ষভাবে চাপ বাড়বে কর্মীদের উপরেই। কেননা অতি দ্রুত কাজ করার ক্ষেত্রে অনেক সময়েই ভুলভ্রান্তির একটা সম্ভবনা থেকে যায়।

কর্মীদের মানসিক অবস্থার অবনতি এবং সঠিক কাজ করার পরিবেশ ও পরিকাঠামো সংস্থায় নেই বলেও অভিযোগ উঠেছিল আগেই। যে কারণে এই সংস্থাকে কড়া নজরের মধ্যে রাখা হয়েছিল। এছাড়াও এই সিদ্ধান্তের ফলে সংস্থার আয়ের উপরে প্রভাব পড়বে বলে মত প্রকাশ করেছেন অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা।

জানা গিয়েছে যে সকল কর্মীরা যারা এই মুহূর্তে বেঞ্চে রয়েছেন তাদের খুব দ্রুত বের করে দেওয়া হবে কেননা তাদের কাছে অন্য কোন পন্থা নেই। তবে যদি তারা নতুন ভাবে প্রশিক্ষিত হয়ে বা অন্যত্র গিয়ে যদি নিজেদের পুনরায় নতুন প্রযুক্তিতে প্রমাণ করতে পারেন তাহলে সংস্থার তরফ থেকে ভাবা হবে বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু এই ক্ষেত্রে যে সময়টা দরকার হয় তার থেকে কম সময়ের মধ্যে নিজেদের প্রমাণ করতে হবে।

এই সংস্থার বৃদ্ধির হারের উপরে প্রভাব পড়ায় এবং তা কমে যাওয়াতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদক্ষেপ নেবে বলেও জানা গিয়েছিল।এছাড়া কর্মীদের বিষয়ে কিছু পদক্ষেপ নেবে বলেও জানা গিয়েছিল। অনুমান করা হচ্ছে কোপ পরতে পারে প্রবীণ কর্মচারীদের উপরে।

জানা যাচ্ছে কগনিজেন্টের প্রায় ১৩ হাজার কর্মী ছাঁটাই করা হবে। প্রায় ৫ হাজার কর্মীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে পুনঃনিয়োগ করা হবে। যদিও এই সংস্থার অধিকাংশ কর্মী ভারতীয় এবং ভারতের বিভিন্ন রাজ্যতে বিশেষ করে মেট্রো সিটি গুলিতে এই সংস্থার অফিস রয়েছে। এই কর্মী ছাঁটাই করার ফলে সেই অফিসের উপরেও প্রভাব পড়বে বলে জানা যাচ্ছে। অর্থাৎ আর্থিক মন্দা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে এই সংস্থা যে মরিয়া চেষ্টা করছে এবং প্রয়োজন পড়লে কোনরকম কঠিন সিদ্ধান্ত নিতেও তারা পিছপা হবে না সেই চিত্র আবারও সামনে এসেছে। সংবাদমাধ্যমের তরফ থেকে সংস্থার সিইওকে এই বিষয় নিয়ে জিজ্ঞেস করা হলে জানিয়েছেন, সংস্থার প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এর থেকে বেশী কিছু জানাননি।