মৌমিতা পোদ্দার, বনগাঁ: করোনার কোপে ত্রস্ত বিশ্ববাসী, দেশে এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ২। আতঙ্ক ছড়িয়েছে এরাজ্যেও। তবে এতকিছুর মাঝে নতুন করে আমজনতার কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলছে ফাঙগাল ইনফেকশন।

শুনতে খটমট শব্দের নতুন এই ইনফেকশন গত ২থেকে ৩ দিন ধরে ছড়িয়ে পড়েছে, উত্তর ২৪ পরগণা জেলায়। এই জেলার বিভিন্ন গ্রামে যেমন, বনগাঁ, চাঁদপাড়া, ঠাকুরনগর সহ গোবরডাঙার বেশ কিছু অঞ্চলেও প্রভাব বিস্তার করেছে নয়া এই রোগ। যার ফলে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে সাধারণ মানুষজনের।

না, তবে এটি কোনও মানব বাহিত রোগ নয়। এই রোগ দেখা দিয়েছে গাছে। যারফলে অসময়ে হঠাৎ করেই সাদা হহয়ে যাছে গাছের পাতা। বিশেষ করে এই রোগে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হছে নারকেল গাছ। ফলে সাদা-সাদা হয়ে যাছে গাছের পাতা।

জেলার কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একধরনের সাদা মাছি বাহিত রোগ। মাছির লালা থেকে ছড়িয়ে পড়ে এই রোগ। প্রথমে এই রোগের প্রাদুর্ভাব নারকেল গাছে দেখা গেলেও, পরে তা আশেপাশের অন্যান্য গাছগুলিকেও আক্রমণ করে। ফলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে গাছের এই রোগ। পরে আবার দেখা যায়, কালো হয়ে গিয়েছে গাছের পাতার রঙ। নারকেল ছাড়াও পটল,আলু সহ অন্যান্য সবজিতেও এই রোগ লক্ষ্য করা যায়।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন এই সাদা মাছির পোষাকি নাম হল, রিউগস স্পাইরালিং৷ হোয়াইট ফ্লাই। পশ্চিমবঙের মোটামুটি সব জেলাতেই এই সময় এই মাছির উপদ্রব লক্ষ্য করা যায়। তবে বর্ষাকালে কমে যায় গাছের এই রোগ। যদিও এই রোগের কারণে প্রতিবছর বহু গাছ অকালে শুকিয়ে যায়, বা মারা যায়। ফলে এই রোগ পোকার আক্রমণের হাত থেকে বনস্পতিদের বাঁচাতে দ্রুত উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বিভিন্ন জেলার প্রশাসনের আধিকারিকরা। তবে, চিন্তার কোনও কারণ নেই। গাছে বারবার জলের স্প্রে করলে নিস্তার মিলবে এই রোগের হাত থেকে।

এছাড়াও সারাবছর বিভিন্ন উদ্ভিদদের সুস্থ এবং তরতাজা রাখতে নিয়মিত গাছের পরিচর্যার পাশাপাশি, মাঝেমধ্যে গাছে একটু রাসায়নিক স্প্রেও করে নিতে পারেন। এতে বহু বছর বাঁচবে গাছপালা। আগামী প্রজন্ম পাবে আরও বেশি সুস্থ-সুন্দর সবুজ পৃথিবী। বিশ্ব পরিবেশ দিবসের আগে, পরিবেশ সম্পর্কে আরও সচেতন হতে এগিয়ে আসুন।

স্বামীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বস্ত্র ব্যবসাকে অন্যমাত্রা দিয়েছেন।'প্রশ্ন অনেকে'-এ মুখোমুখি দশভূজা স্বর্ণালী কাঞ্জিলাল I