স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: আগামি সাত দিনের মধ্যেই দেউচা পাঁচমির দেওয়ানগঞ্জ ও হরিণসিংঘাতে কয়লাখনির কাজ শুরু হয়ে যাবে। বৃহস্পতিবার দিঘায় বেঙ্গল বিজনেস কনক্লেভ থেকে ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিন বেঙ্গল বিজনেস কনক্লেভের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, দেউচা-পাঁচমি কয়লাখনির জন্য রাজ্য কয়লা মন্ত্রকের ছাড়পত্র পেয়ে গিয়েছে। গতকাল অর্থাৎ বুধবারই এই ছাড়পত্র মিলেছে। মুখ্যসচিব সেখানে যাচ্ছেন। দেওয়ানগঞ্জ ও হরিনসিংঘাতে খুব শীঘ্রই কাজ শুরু হবে। বাকি অংশে পরিবেশ ও পুনর্বাসনের কাজ শুরু করবে রাজ্য।

প্রসঙ্গত, সেপ্টেম্বর মাসে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে বৈঠকের সময় তাঁকে দেউচা-পাঁচমি কয়লাখনি উদ্বোধনের জন্য আমন্ত্রণ জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধানমন্ত্রীকে না আসার অনুরোধ করে চিঠি লিখেছিলেন সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত। চিঠিতে কয়লাখনির পরিবেশ ছাড়পত্র পাওয়া ও আদিবাসীদের পুনর্বাসনের বিষয়টির কথা উল্লেখ করেছিলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে দেউচা-পাঁচমি কয়লাখনি নিয়ে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরে রাজ্যসভার সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত লিখেছিলেন,

প্রকল্পটি এখনও পরিবেশ ছাড়পত্র পায়নি। ওই এলাকা আদিবাসী অধ্যুষিত। ওখানে কয়লাখনি হলে, তাঁদের কী কী অসুবিধার সম্মুখীন হতে হবে, তা জানিয়ে বার বারই আপত্তি করেছেন তাঁরা।

তারপর রাজ্য সরকারের তরফে আদিবাসীদের পুনর্বাসনের কথা বলা হলেও, এখনও সেই কাজ শুরু হয়নি।
এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে বীরভূমে রাজনৈতিক হিংসা বেড়েছে। বেশকিছু ক্ষেত্রে যার পিছনে জমি মাফিয়াদের হাত রয়েছে বলেও মনে করা হচ্ছে।

এদিন বেঙ্গল বিজনেস কনক্লেভের মঞ্চ থেকে ঘুরিয়ে প্রসঙ্গটি তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। মোদি সরকারকে নিশানা করে তিনি বলেন, “ব্যবসা ভয় দেখানো, মানসিক দূষণের কাজ নয়। কাস্টমস ট্যাক্স, সিবিআই ট্যাক্স। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে। পরিবার সুখে থাকলে তো বিনিয়োগ করতে সুবিধা হবে। কেউ এসে রোজ আপনার ঘরে ধাক্কা দেবে আর বলবে গেট আউট। ব্যবসা বন্ধ করে চলে যাও এটা হবে না।”