কলকাতা: গোষ্ঠ পাল সরণির ক্লাব তাঁবুতে খেলে যাওয়া সেরা সর্বকালের অন্যতম সেরা বিদেশি তিনি। বিতর্কের অবকাশ নিয়ে তাঁকে ‘সেরা বিদেশি’ বললেও কোনওরকম অত্যুক্তি করা হয় না। মোহনবাগান নামটা যতদিন থাকবে, ঠিক ততদিন দৃপ্ত কন্ঠে উচ্চারিত হবে জোসে রামিরেজ ব্যারেটোর নাম। একটা সময় ছিল প্রায় একার কাঁধেই টেনেছেন সবুজ-মেরুনকে। তাঁর পায়ের জাদুতে রব উঠত সবুজ-মেরুন গ্যালারিতে। ‘শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা, ব্যারেটোই ভরসা’।

যে ব্রাজিলিয়ানের নামে একসময় আন্দোলিত হতেন সবুজ-মেরুন জনতা, অবসরোত্তর সময়ে ক্লাবের তরফ থেকে যোগাযোগ না রাখায় গতবছর মোহনবাগান দিবসের আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিমান উগড়ে দিয়েছিলেন তিনি। পরে অবশ্য ভুল স্বীকার করে ব্যারেটোর সঙ্গে দূরত্ব কমিয়ে নিয়েছেন বাগান কর্তারা। এবার করোনাভাইরাসের কারণে ভার্চুয়াল মাধ্যমে পালিত হল ‘মোহনবাগান দিবস’। সেখানে বুধের সন্ধেয় ভার্চুয়াল আড্ডায় মেতেছিলেন ক্লাবের ভিন্ন প্রজন্মের ফুটবলাররা। সেখানে যেমন ছিলেন বর্ষসেরা জোসেবা বেইতিয়া, তেমনই ছিলেন বাইচুং কিংবা কয়েক মরশুম আগে বাগান জনতার নয়নের মনি হয়ে ওঠা হাইতিয়ান ম্যাজিশিয়ন সনি নর্ডে।

তবে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ ছিল যে মানুষটাকে ঘিরে তিনি বোধহয় বাগান জনতার আদরের ‘সবুজ তোতা’ জোসে ব্যারেটো। ফুটবলার হিসেবে ক্লাবকে জোড়া জাতীয় লিগ সহ অজস্র ট্রফি এনে দেওয়া সবুজ তোতার কী কখনও প্রাণের ক্লাবে কোচিং করানোর ইচ্ছে জাগেনি? উত্তরে ভার্চুয়াল আড্ডায় রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিটি জানালেন, ‘মোহনবাগানের কোচ হওয়ার স্বপ্ন আমি সবসময় দেখে এসেছি। একজন ভালো কোচ হওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছি আমি। মোহনবাগান অফিসিয়াল, সমর্থকেরা আমার কাছে পরিবার। এই ক্লাবে আমি যা করেছি সম্মানের সঙ্গে করেছি। তাই মোহনবাগানের কোচ হওয়ার অর্থ তাঁদের সঙ্গে পুনরায় মিলিত হওয়া। আর সেটা হওয়ার জন্য আমি ভীষণভাবে স্বপ্ন দেখি।’

পাশপাশি এটিকে’র সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে মোহনবাগানের আইএসএল খেলার বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়ে ব্যারেটো বলেন, ‘দারুণ একটা কম্বিনেশন। বাংলা ফুটবলে এটা একটা যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে আসবে।’ অনুষ্ঠানে বাইচুং বলেন, ‘ভারত সহ গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা অজস্র মোহনবাগান সমর্থকদের কাছে এটা একটা গর্বের দিন। আশা করব এই দিনটা এভাবেই আগামী বছরগুলোতেও এভাবেই পালন হবে।’

ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া বর্ষসেরা বেইতিয়া বলেন, ‘আমাকে এতোটা ভালোবাসার জন্য ধন্যবাদ। ভীষণভাবে উপভোগ করছি দিনটা। এটা বিশেষ একটা দিন তবে আক্ষেপ একটাই অতিমারির জন্য সেলিব্রেট করা গেল না। তবে ভবিষ্যতের জন্য সেটা তোলা থাকল।’

দেশে এবং বিদেশের একাধিক সংবাদমাধ্যমে টানা দু'দশক ধরে কাজ করেছেন । বাংলাদেশ থেকে মুখোমুখি নবনীতা চৌধুরী I