স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: প্রতি বছরের মতো এবারও কলকাতার দুর্গা পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৩০ আগস্ট নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে৷ এই বৈঠকে তিন হাজারেরও বেশি পুজো কমিটির অংশগ্রহণ করার। ওইদিন মুখ্যমন্ত্রী আবার বড় কোনও ঘোষণা করেন কিনা তা নিয়ে পুজো উদ্যোক্তাদের মধ্যে কৌতুহল রয়েছে৷

গতবছর রাজ্যের ২৮ হাজার বারোয়ারি পুজো কমিটির জন্য ২৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল রাজ্য সরকার। নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে শারদীয়া উৎসব উপলক্ষে পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে প্রশাসনিক সমন্বয় বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, কলকাতার তিন হাজার এবং জেলাগুলির ২৫ হাজার পুজো কমিটি প্রত্যেকে ১০ হাজার টাকা করে অনুদান পাবে। কলকাতায় এই টাকা দেবে পুরসভা ও দমকল। বিতরণ করবে কলকাতা পুলিশ। জেলার পুজোগুলিকে অনুদান দেবে রাজ্যের পর্যটন, ক্রেতা সুরক্ষা, স্বনির্ভর গোষ্ঠী দফতর এবং রাজ্য পুলিশ। এই ঘোষণার পরই বিরোধীদের প্রবল সমালোচনার মুখে পরে তৃণমূল৷

এবার খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দূর্গাপুজোর উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে জনসংযোগে ব্রতী হতে দলীয় সাংসদ ও নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে, তৃণমূল চায় না কোনওভাবে কোনও পুজোর রাশ বিজেপি-র হাতে যাক। তাই এবার মুখ্যমন্ত্রী পুজো উদ্যোক্তাদের নতুন কোনও উপহার দেন কিনা এখ সেটাই দেখার৷

লালবাজার সূত্রের খবর, পুজোর দু’মাস বাকি থাকলেও কলকাতা পুলিসের ন’টি ডিভিশনের ডিসিরা জুলাই মাস জুড়ে শহরের বড় ও নামী পুজোস্থল ঘুরে দেখার পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে দেখা করে থিম, প্যান্ডেলের আকার এবং দর্শকদের প্রবেশ-প্রস্থানের পথ নিয়ে একপ্রস্থ আলোচনা সেরে নিয়েছেন। সূত্রের খবর, লালবাজারের পক্ষ থেকে উদ্যোক্তাদের সাফ জানানো হয়েছে, থিমের জন্য কোনও অবস্থায় দর্শনার্থীদের সুরক্ষার সঙ্গে আপস করা যাবে না।

ইতিমধ্যেই কয়েকটি পুজো কমিটিকে প্যান্ডেলের ঢোকা-বের হওয়ার পথের আকার-আয়তন বাড়াতে বলা হয়েছে। ৩০ আগস্টের বৈঠকের পর ৫ অথবা ৬ সেপ্টেম্বর পুজো উদ্যোক্তা, দমকল, পুরসভা, পূর্ত দফতর, সিইএসসির সঙ্গে বৈঠক করবে কলকাতা পুলিশ।