স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: টানা ছুটির মেজাজ কাটিয়ে মঙ্গলবার খুলল সরকারি দফতরগুলি। সরকারি কর্মীদের সরকারি আমেজ থেকে বের করে আনতে প্রশাসনিক কাজে ঝাঁকুনি দিতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ আগামী সোমবার ১১ নভেম্বর সব দফতরের প্রধান সচিব, অতিরিক্ত মুখ্যসচিব, মন্ত্রী, জেলাশাসক ও পুলিস সুপারদের সঙ্গে নবান্ন সভাঘরে প্রশাসনিক বৈঠক করবেন তিনি। সেখানে বিভিন্ন দফতরের কাজের খতিয়ান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

আগামী এপ্রিল-মে মাসে রাজ্যে একশোটির পুরসভার ভোট। গত লোকসভা ভোটে ১৮টি আসন জিতে ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে বিজেপি। এই অবস্থায় কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রশাসনিক মহলের মতে, কার্যত পুর নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে দিল মমতার সরকার। ওইদিন মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন দফতরের রিপোর্ট কার্ড প্রকাশ করবেন। বরাদ্দ অর্থের কত টাকা খরচ হয়েছে এই সমস্ত বিষয়েই বিশদে রিপোর্ট নেবেন মুখ্যমন্ত্রী ৷ যে দফতর ভালো কাজ করবে, তাদের জন্য আগামী বছরের বাজেটে বরাদ্দ বাড়বে। যাদের রেকর্ড ভালো হবে না, তাদের কাছ থেকে বরাদ্দ টাকা ফিরিয়ে নেওয়া হবে বলে নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে।

তবে প্রশাসনের অন্য একটি সূত্র জানাচ্ছে, এই বৈঠক নিছক দফতরগুলির কাজের খতিয়ান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার বৈঠক নয়৷ সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীকে না জানিয়ে বেশ কয়েকটি দফতর নিজেরাই কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছিল। যা নিয়ে বেজায় ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী। ওই সূত্র জানাচ্ছে, ১১ তারিখের বৈঠকে দফতরগুলির সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করতে চান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই এই বৈঠক তলব করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে এ ধরনের প্রশাসনিক বৈঠক শুরু করেন মুখ্যমন্ত্রী। বছরে দু’বার রাজ্যস্তরে বৈঠক হয়। এরপর তিনি জেলাওয়াড়ি প্রশাসনিক বৈঠক শুরু করেন। জেলার প্রত্যন্ত ব্লকে নবান্নকে নিয়ে হাজির হন। বিভিন্ন কাজের চুলচেরা বিশ্লেষণ হয়। সরকারি অফিসারদের অনেকরই দাবি, এতে প্রশাসনের কাজে অগ্রগতি হয়৷ জানা গিয়েছে, ১১ নভেম্বর নবান্ন সভাঘরে বৈঠকের পর আগামী ১৩ নভেম্বর, বুধবার তিনি কোচবিহারে যাবেন।

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা