স্টাফ রিপোর্টার,শিলিগুড়ি : নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্কের কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার শিলিগুড়ির উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় নোবেল পেয়েছেন, আমরা গর্বিত। জানেন কি, উনি আমাদের সঙ্গে কাজ করেছেন? মুখ্যসচিব রাজীব সিনহাকে বলছি, উনি বলবেন”।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে ‘ইনফর্ম্যাল হেলথ সার্ভিস প্রোভাইডার’ অর্থাৎ হাতুড়ে ডাক্তারদের ক্ষমতায়নের কাজে যুক্ত ছিলেন সদ্য নোবেলজয়ী অভিজিৎ। মমতার মুখে এই ‘সম্পর্কের’ কথা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পেয়ে মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা বলেন, “অভিজিৎবাবু যে কাজগুলোর জন্য নোবেল পেয়েছেন, সেগুলির মধ্যে রয়েছে ইনফর্মাল হেলথ সেক্টরে যাঁরা কাজ করেন, যাঁদের হাতুড়ে ডাক্তার বলা হয়, তাঁদের ক্ষমতায়ন। এই কাজটা প্রথম উনি করেছিলেন বীরভূমে। এই কাজে আমাদের স্বাস্থ্য দফতরও যুক্ত ছিল। ওখানে সমীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, ৮০ শতাংশ মানুষই প্রথম হাতুড়ে ডাক্তারদের কাছে যান। এরপর বীরভূম জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ওঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ৬ মাসের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এ বছর পর্যন্ত ১ লক্ষ ১০ হাজার জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এই কাজটা ডকুমেন্ট করেছেন অভিজিৎবাবু। প্রশিক্ষণে বোঝানো হচ্ছে, ওঁরা কী করবেন এবং কী করবেন না। এ কাজের জন্য রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নোবেলজয়ী।”

এ প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, “আমি দেখলাম ডাক্তারের অভাব। এদিকে, হাতুড়ে জাক্তারদের পাত্তা দিই না। তবে, ওদের অস্ত্রোপচার করতে বলছি না। কিন্তু প্রাথমিক চিকিৎসা যেন করতে পারেন। আমি কোয়াক ডাক্তারদের ডাক্তার বানাচ্ছি না। ওরা হেল্পার। প্রাথমিকভাবে সাহায্য তো করবেন।”

শিলিগুড়ির বিজয়া সম্মিলনীর মঞ্চ থেকে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কখনও কখনও কেউ বিদ্রুপ করে বলে বাংলায় নাকি আর বিজ্ঞানী হয়নি। বলার তিন দিনের মাথায় নোবেল প্রাইজ পেয়ে গেল বাংলা।” এরপর গানের সুরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এত নোবেল কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি, সে যে সকল দেশের রানি সে যে আমার বঙ্গভূমি।”

এদিকে, দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ সেরেই সন্ধ্যায় কলকাতা বিমানবন্দরে আসছেন অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাঁকে স্বাগত জানাতে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডে অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার দু’ধারে ব্যানার ও এলডিতে লেখা থাকবে ‘বাংলা আপনাকে নিয়ে গর্বিত’। অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্বাগত জানাতে কলকাতা বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকবেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

Tree-bute: রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও