স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: দলের দুই সাংসদ ও এক সাংসদের স্ত্রীর মৃত্যুর জন্য মোদী সরকারকে দায়ী করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এরপরই তাঁকে কড়া আক্রমণ করলেন বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ অনুপম হাজরা৷ বললেন, তিনজনের মৃত্যু নিয়েই সস্তা রাজনীতি করছেন মুখ্যমন্ত্রী৷

বুধবার রবীন্দ্র সদনে তাপস পালকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এসে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী। অভিনেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ তাপস পাল, সুলতান আহমেদ এবং প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রীর অকাল প্রয়াণের জন্য স্পষ্ট ভাষায় মোদী সরকারকেই দায়ী করেন তিনি৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘বিজেপির চাপে পড়ে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় ক্ষত বিক্ষত হয়ে গিয়েছে আমাদের তিন জন।”

মমতা বলেন, ‘‘তাপস পালের মৃত্যু আবার প্রমাণ করল, একটা এজেন্সির অত্যাচারে একটা মানুষ নিজেকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল, ক্ষতবিক্ষত ছিল, হয়তো মৃত্যুর আগে জানলও না ওর কী অপরাধ ছিল…কী খেলা আমি জানি না। অন্যায় করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিন, বিচার করুন। এতদিন জেলের মধ্যে বন্দি করে রাখার কী কৌশল এটা! কেন্দ্রের জঘন্য রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক আচরণ থেকে কেউই রেহাই পাচ্ছে না।”

এই মন্তব্যের পরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধে অনুপম বলেন, ‘‘উনি(পড়ুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) যে তিনজনের কথা উনি বলছেন, তাদের মধ্যে প্রসূণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী ও সুলতান আহমেদের মৃত্যুর সময় আমি তৃণমূলেই ছিলাম। ফলে সিবিআইয়ের সঙ্গে যে ওই মৃত্যুর কোনও যোগসূত্র নেই তা আমি ভালভাবেই জানি।আর কীভাবে তাপস দা অকালে চলে গেলেন সেটা সবাই বুঝতে পারছেন৷ আসলে কখনও কখনও তৃণমূল নেত্রী দলের কিছু মানুষের উপর থেকে হাত তুলে নেন। দলে তাঁদের অচেনা করে দেন৷ সেই অচেনা হয়ে যাওয়ার যে যন্ত্রণা সেখান থেকেই তাপস দারএই নির্মম পরিণতি। আর প্রসূণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রীর মৃত্যুর সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগাযোগ আছে বলে আমার মনে হয় না৷ আসলে ব্যক্তিগত ব্যাপারকে রাজনীতির সঙ্গে জড়ানো হচ্ছে৷ এটা একটা সস্তার রাজনীতি করছেন মুখ্যমন্ত্রী৷’’

অনুপমের প্রশ্ন, ‘‘ভুবনেশ্বরে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখতে গিয়ে কেন পাশের ঘরে তাপস পালের সঙ্গে দেখা করলেন না দিদি?’’

এই প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপির সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়ও৷ তিনি বলেন, ‘‘তীব্র ভাষায় ধিক্কার জানাচ্ছি। রবীন্দ্রসদনে একজন শিল্পীর মৃতদেহ শায়িত রয়েছে, তাঁকে শেষশ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে নোংরা রাজনীতি টেনে এনেছেন মমতা। ভুবনেশ্বরে সুদীপকে দেখতে গিয়েছিলেন দিদি, পাশের ঘরে তাপস পাল ছিলেন, কেন দেখা করলেন না? যে কারণে তাপস পালের মানসিক চাপ ছিল, তাতে রাজনীতি টেনে আনা দিদির পক্ষেই সম্ভব। তাপস দা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। ওঁর সঙ্গে আমার বহুদিনের সম্পর্ক। তৃণমূল যে কাজের মধ্যে লিপ্ত থাকে, তাতে তাপসদা’র মতো সহজ-সরল মানুষের জড়িয়ে পড়া, কতটা শান্তি পেয়েছিলেন উনি, তা মানুষ প্রশ্ন তুলছে’’।