কৃষ্ণনগর: ‘কাঁচাগোল্লা দেব, মিহিদানা দেব, কৃষ্ণনগরের বিখ্যাত মিষ্টি সরপুরিয়াও দেব৷ অতিথি আপ্যায়নে যা করণীয় করব, কিন্তু ভোট দেব না৷’ শনিবার নদিয়ার পানিঘাটায় ভোট প্রচারে গিয়ে ভোটারদের এই পরামর্শই দেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এদিন তিনি বলেন, ‘বিজেপি ভোট চাইলে কষিয়ে একটা ভোটের থাপ্পড় দিন৷’

এদিন পানিঘাটায় কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী মহুয়া মৈত্রর সমর্থনে সভা করেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই এদিন তিনি কংগ্রেস-সিপিএম-বিজেপিকে একযোগে আক্রমণ করেন৷ মমতার কথায়, কংগ্রেস সিপিএম বিজেপির আঁতাত হয়েছে৷ ওদেরকে বর্জন করুন৷ শুধু তাই নয়, এদিন তাঁর আরও দাবি, ‘বিজেপিকে উৎখাত করার ক্ষমতা একমাত্র তৃণমূলের আছে৷ আর কোনও রাজনৈতিক দলের সে ক্ষমতা নেই৷’

এদিনের প্রচারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন- কেন্দ্রে বিজেপি ফের ক্ষমতায় এলে সাধারণের কি ক্ষতি হতে পারে৷ বিজেপির বিরুদ্ধে মূলত তিনটি ইস্যু তুলে আক্রমণ করেন মমতা৷ প্রথম সমস্যা নোটবন্দি৷ নোটবন্দিতে কার ক্ষতি হল আর কার লাভ তা বিশ্লেষণ করেন তিনি৷ মমতার কথায়, ‘‘রাতারাতি নোটবন্দির সিদ্ধান্ত নিয়ে কত মানুষকে ভিখারি করে দিয়েছে এক্সপেয়ারি মোদী৷ নোটবন্দির ফলে ইন্ডাস্ট্রি ভেঙে গিয়েছে৷ কত ব্যবসা বন্ধ হয়েছে৷ তার ক্ষতিপূরণ কে দেবে?’’ তাই শিক্ষা দিতেই বিজেপিকে ভোটের থাপ্পড় মারার নিদান দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী৷

দ্বিতীয় ইস্যু এনআরসি৷ অসমে জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকরণের চূড়ান্ত খসড়ায় বাদ পড়েছে ৪০ লক্ষ বাঙালির নাম৷ সেই ইস্যু তিনি এদিন আরও একবার তুলে ধরেন৷ মমতার কথায়, ‘‘মোদী বাবু বাংলায় এনআরসি করতে চাইছে৷ কিন্তু আমি থাকতে তা করতে দেব না৷ আমার পরিবার আমাকে শিখিয়েছে সকলকে নিয়ে চলতে৷’’ এদিন প্রধানমন্ত্রীকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, আগে দিল্লি সামলান তারপর বাংলায় হাত বাড়াবেন৷ পাশাপাশি শুধু বাংলায় নয়, মোদীর দল বিজেপি বাংলার বাইরেও হারবে বলেও এদিন দাবি করেন মমতা৷

তৃতীয় ইস্যু ধর্ম৷ এবারের লোকসভা নির্বাচনে এই ইস্যুটিও যথেষ্ট চর্চিত৷ তৃণমূলের অভিযোগ, হিন্দু ধর্মকে বিজেপি নিজের বলে ধরে নিয়েছে৷ প্রচারে মমতা বলেছেন- আমরা কি বাণের জলে ভেসে এলাম নাকি? আমি তো হিন্দু ঘরের মেয়ে৷ তাঁর আরও দাবি, ‘‘হিন্দু ধর্ম হাজার হাজার বছর আগে সৃষ্টি হয়েছে৷ তখন বিজেপি তুমি কোথায় ছিলে?’’ পাশাপাশি ধর্মকে বলি করে বিজেপি মানুষে মানুষে দাঙ্গা বাঁধানোর পরিকল্পনা করছে তাও এদিন স্পষ্ট করেন মমতা৷

পানিঘাটার জনসভার পর রানাঘাট লোকসভার অন্তর্গত বগুলায় রুপালি বিশ্বাসের সমর্থন আরেকটি জনসভা করেন৷ তারপর কৃষ্ণনগরে একটি রোড শো করেন৷