স্টাফ রিপোর্টার, দার্জিলিং: অসমের ঘটনা বাংলায় ঘটবে না৷ কোনও গোর্খাকেই রাজ্য ছেড়ে বেরোতে দেব না৷ সিএএ বিরোধী মঞ্চ থেকে পাহাড়ের বিভিন্ন উপজাতির নাগরিকদের আশ্বস্ত করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পালটা কেন্দ্র সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বললেন, কাউকে তাড়াতে হলে তাঁকে আগে দেশছাড়া করতে হবে।

বুধবার দার্জিলিং শহরে নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে মিছিলও করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভানু ভক্ত ভবন থেকে চক বাজার পর্যন্ত মিছিলের একেবারে সামনে ছিলেন তিনি। সঙ্গে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতারা ছাড়াও ছিলের রাজ্যের দুই মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও ইন্দ্রনীল সেন। কলকাতায় নাগরিকত্ব আইন বিরোধিতায় মমতাকে হাতে কাঁসর নিতে দেখা গিয়েছে। এদিন বড় করতাল বাজিয়ে মিছিলে হাঁটেন তিনি। মিছিল শেষে চকবাজারে সভা করেন। সেই সভায় কখনও নেপালি ভাষায় স্লোগান দিয়ে কখনও স্থানীয় রাজনীতির কথা বলে তিনি পাহাড়ের পাশে আছেন বোঝাতে চান মমতা।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “অসমে এনআরসি করে বহু বাঙালি এবং গোর্খাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এখন দার্জিলিংয়ে বিপদের দিন। তবে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের মাধ্যমে এ রাজ্যে কিছুতেই কোনও গোর্খাকে বিতাড়িত হতে দেব না। কোনও উপজাতির নাগরিককে বাংলা থেকে তাড়াতে দেব না। দেশ ভাগ করতে দেব না। বাংলায় কোনও ডিটেনশন ক্যাম্প হবে না।”

মঙ্গলবার লখনউয়ের জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ বিরোধীদের উদ্দেশে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, “ক্ষমতা থাকলে জনসমক্ষে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে বিতর্কে বসুন।” শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবের নাম করেও চ্যালেঞ্জ ছোড়েন সদ্য প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি। এদিন জনসভায় শাহ বলেন, “বিরোধীরা বাস্তবটা দেখতে পাচ্ছে না। কারণ ওদের চোখে ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির চশমা লাগানো আছে।”

বুধবার দুপুরে দার্জিলিংয়ের জনসভা থেকে তাঁর উদ্দেশ্যেই পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । তিনি বলেন, “দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বড় বড় কথা বলছেন। আমাদের মিথ্যাবাদী বলেছেন, তা হলে সত্যিটা আপনারা বলুন। দেশের অর্থনীতির বেহাল দশা। কর্মসংস্থান নেই। ব্যাঙ্কেও টাকা সুরক্ষিত নয়। কেউ প্রতিবাদ করলেই তাঁর বিরুদ্ধে এজেন্সি লাগিয়ে দিচ্ছে।” তাঁর আরও অভিযোগ, “বিজেপির বিরুদ্ধে কথা বললেই পাকিস্তানি বানিয়ে দিচ্ছে। পাকিস্তান কী আপনাদের বন্ধু?” এর পরেই মমতা তিনটি প্রশ্ন ছুড়ে দেন–

এক, আমরা যদি মিথ্যা বলি সত্যি কি সেটা বলুন?

দুই, নাগরিকত্ব আইনের মাধ্যমে আপনারা নিজেদের ইচ্ছা মতো কাউকে দেশে রাখবেন আর কাউকে তাড়ানোর পরিকল্পনা করেছেন কি করেননি?

তিন, নাগরিকত্ব পেতে গেলে পাঁচ বছর থাকতে হবে এমন কথা বলা আছে কি নেই?