স্টাফ রিপোর্টার, কোচবিহার: এই প্রথমবার রাসমেলা চলাকালীন মদনমোহন মন্দিরে পুজো দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুজো দিলেন ‘মা-মাটি-মানুষ’ গোত্রে।

ঝটিকা সফরে সোমবার কোচবিহারে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কর্মীসভা থেকে বেরিয়ে এরপর মদনমোহন মন্দিরে পুজো দিতে যান মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী পুজো দেবেন, তাই ডালা তৈরি করে রাখা হয়েছিল মদনমোহন মন্দিরে। মন্দির থেকে বেরিয়ে রাসমেলার অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমি যতবারই কোচবিহারে আসি, তখনই মদনমোহন মন্দিরে আসি। কিন্তু আজকের অঞ্জলি আমার খুব ভাল লেগেছে।’ মুখ্যমন্ত্রী নিজেই জানিয়েছেন, তাঁর বন্দ্যোপাধ্যায় পদবি দেখে মন্দিরের পুরোহিত শাণ্ডিল্য গোত্রে পুজো দিচ্ছিলেন। তখন মুখ্যমন্ত্রীই তাঁকে অনুরোধ করেন, মা মাটি মানুষ গোত্রে পুজো দিতে। রাজ পুরোহিত তারপর মা মাটি মানুষ গোত্রে পুজো দেন৷ ওই গোত্র সংযোজনের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন,”আমি যখন পুজো দিই, আমি সবার জন্য করি।”

মদনমোহন মন্দিরের মাঝখানে সবচেয়ে বড় ঘরটিতে অধিষ্ঠিত রয়েছেন স্বয়ং মদনমোহন। তার পাশের ঘরে শ্বেতপাথরের মহাকাল মূর্তির উপর কষ্টিপাথরের একটি কালীমূর্তি আছে। বাম পাশের ঘরে অষ্টধাতুর জয়তারা, অন্নপূর্ণা, কাত্যায়নী ও মঙ্গলচণ্ডীর মূর্তি রয়েছে। তার কিছুটা দূরেই মন্দির প্রাঙ্গণের পূর্ব দিকে আছে মা ভবানীর মন্দির। উঁচু প্রাচীর দিয়ে ঘেরা এই মন্দিরের প্রধান প্রবেশদ্বারটি রয়েছে দক্ষিণে। তার উপরে রয়েছে নহবতখানা। নহবতখানার বাজনার সুরে প্রতিদিন সকালে বিগ্রহগুলিকে জাগিয়ে তোলা হয়। আবার সন্ধ্যায় শয়ন করানো হয়। সেই নহবতখানা দিয়েই মুখ্যমন্ত্রী প্রথমে আসেন মদনমোহনের গর্ভগৃহে। পুরোহিত মুখ্যমন্ত্রীর হাতে ও মাথায় পবিত্র জল ছিটিয়ে দেন। মুখ্যমন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হয় পুষ্পার্ঘ্য। সঙ্গে ছিলেন মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা। দু’জনেই মদনমোহনের কাছে অঞ্জলি দেন।

কোচবিহারের রাসমেলা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এদিন বেশ আবেগপ্রবণ ছিলেন । মমতা বলেন, “কোচবিহারের রাসমেলা বহুদিনের পুরোনো। ঐতিহাসিক, ধার্মিক। বলতে পারেন ধর্মে, রংয়ে, বর্ণে এ এক অদ্ভুত অনুভূতি।” এরপর তিনি বলেন,,মেলাতে গেলে পদপিষ্ট হওয়ার ভয় থাকে।তাই সাধারণত যাই না। মুখ্যমন্ত্রীকে দেখতে এ দিন প্রচণ্ড ভিড় হয়েছিল রাসমনেলা ও মদনমোহন মন্দির চত্বরে। কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল সর্বত্রই। সেই সঙ্গে অবশ্য খেয়াল করা হয়েছে, কোনও দর্শনার্থীর যাতে অসুবিধা না হয়, সে দিকেও।