নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: বাংলাকে একদিকে যেখানে পাখির চোখ করেছিল বিজেপি, অন্যদিকে সেখানেই বিজেপিকে রাজ্য থেকে সমূলে উপড়ে ফেলতে তৎপর ছিল তৃণমূল শিবির৷ কিন্তু ফলাফলে ২২-১৮ হওয়ায় কার্যত তৃণমূল কংগ্রেস শিবিরে ধাক্কা লাগে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের৷ কারণ ৪২-এ ৪২-এর অঙ্ক এ যাত্রায় মিলল না৷ তার ওপর মঙ্গলবার তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সাসপেন্ড মুকুল পুত্র শুভ্রাংশ সহ একাধিক বিধায়ক, এবং তৃণমূলের বহু কাউন্সিলর মুকুল রায়, কৈলাস বিজয়বর্গীয়র উপস্থিতিতে যোগ দেন বিজেপিতে৷

সেই সঙ্গে মুকুল রায় এও জানিয়ে দেন, সবে শুরু, জুনে আরও ধাক্কা অপেক্ষা করছে তৃণমূল শিবিরের জন্য৷ এরপর বিকেলে নবান্ন সূত্রে জানা যায় প্রধানমন্ত্রীর শপথগ্রহণ আমন্ত্রণে সাড়া দিয়েই ৩০ মে দিল্লির অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

 

 

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদী সামনে রেখে দেশের ক্ষমতায় আসে বিজেপি৷ প্রচারে মোদী-মমতা ডুয়েল দেখা গিয়েছিল৷ কিন্তু তারপরই মোদীর শপথে দেখা যায়নি বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে৷ কিন্তু, এবার অন্য ছবি৷ মোদীর দ্বিতীয়বারে শপথে যাচ্ছেন তৃণমূল সুপ্রিমো৷ জানা গিয়েছে ইতিমধ্যেই বৃস্পতিবারের সব কর্মসূচি বাতিল বলে ঘোষণা করা হবে৷ ইতিমধ্যেই সেই প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গিয়েছে৷ বৃহস্পতিবার ৩০ মে সন্ধ্যায় শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান মোদীর। যেখানে দেশ-বিদেশের সমস্ত তাবড় তাবড় ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। আর সেই অনুষ্ঠানেই উপস্থিত থাকবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নবান্ন ছাড়ার সময় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে৷ মাঝে আর এক দিন রয়েছে হাতে৷ তবে প্রদানমন্ত্রীর শপথে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি৷ এটা যেহেতু সাংবিধানিক সৌজন্য তাই এই সিদ্ধান্ত৷’’ মোদীর শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই অন্য সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে বলে নবান্নে জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

তবে মমতার এই উপস্থিতিকে অন্যভাবে দেখছেন বারাকপুরে বিজেপির অন্যতম কান্ডারী অর্জুন সিং৷ সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানিয়েছেন, ভাইপোকে বাঁচানোর চেষ্টাতেই দিল্লি ছুটে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী৷

প্রসঙ্গত এর আগে, সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বারাকপুর লোকসভার বিজেপির ভাবী সাংসদ বলেছিলেন, দলবদলকারী কাউন্সিলররা তাঁর নিজে হাতে তৈরি। ফলে বেশিদিন তাঁরা যে আমাকে ছেড়ে থাকতে পারবে না সেব্যাপারে নিশ্চিত ছিলাম। আমাদের মধ্যে কোনও বিভেদ নেই। তৃণমূল বিভেদ তৈরি করার চেষ্টা করছে বলে দাবি করেন বিজেপির সাংসদ। শুধু তাই নয়, অর্জুন সিং আরও বলেন, ঘরের ছেলেরা ঘরে ফিরেছে। ওদের ভুল বোঝানো হয়েছিল বলেও দাবি তাঁর। তবে বোর্ড যে ভারতীয় জনতা পার্টিরই হবে তা কার্যত একপ্রকাশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন তৃণমূলের প্রাক্তন এই সাংসদ। তবে তাঁর আরও দাবি, তৃণমূল দলটা শেষ হয়ে যাবে । আগামিদিনে তাঁর এলাকার সব পঞ্চায়েতও যে বিজেপির দখলে আসতে চলেছে তা কার্যত একপ্রকাশ নিশ্চিত অর্জুন। আর এই শিবিরকে রক্ষা করতেই দিল্লিতে ছুটে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী এমনটাই মত তাঁর৷

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.