স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: খুশির নমাজ শেষে জমায়েতে উপস্থিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর গলায় শোনা গেল ‘জয় বাংলা’, ‘জয় ভারত’ ধ্বনি৷ সংখ্যালঘুদের উদ্দেশ্যে তাঁর আশ্বাস, ‘বাংলায় আপনারা ন্যায় বিচার পাবেন৷ অনেকেই অনেক কথা বলছে তাতে কান দেবেন না৷’

ময়দানে হয় ঈদ-উল-ফিতারের নামাজ পাঠ৷ প্রতিবারই সেখানে উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী৷ এবারও তার অন্যথা হয়নি৷ কিন্তু লোকসভা ভোটের পর পরিস্থিতি বদলেছে৷ ভোট বিপর্যয়ের কারণ খুঁজতে বসে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেছিলেন, ‘যে গরু দুধ দেয় তার লাথিও সহ্য করতে হয়৷’ মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়৷

আরও পড়ুন: গিরিরাজের পর ভোলা, বিতর্কিত মন্তব্যে অস্বস্তি বাড়ল বিজেপির

নজর ছিল এদিন সংখ্যালঘুদের উদ্দেশ্যে কী বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী সেদিকেই৷ নির্বাচনী ফলেই দেখা গিয়েছে মুসলিমরা ভরসা রেখেছেন তৃণমূলে৷ যা মুখ্যমন্ত্রীর এদিনের বক্তৃতায় উঠে আসে৷ সঙ্গে নাম না করেও কটাক্ষ করেছেন গেরুয়া শিবিরকে৷ মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘’’আপনারা বাংলাকে আশীর্বাদ করেছেন, সহযোগিতা করেছেন৷ আপনাদেরকে কৃতজ্ঞতা জানাই৷’’ বাংলা বলতে মুখ্যমন্ত্রী যে আসলে তাঁর দলের কথাই বোঝাতে চেয়েছেন তা স্পষ্ট৷

আরও পড়ুন: সাউদাম্পটনের মেঘলা আবহাওয়ায় তিন সিমারে খেলার বার্তা কোহলির

দেশ জুড়ে গেরুয়া ঝড়৷ একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিজেপি৷ নির্দিষ্ট মেয়াদের আগেই মমতা সরকার শেষ হয়ে যাবে বলে হুঙ্কার দিচ্ছে মোদী-অমিত শাহরা৷ এই পরস্থিতিতে তৃণমূল নেত্রীর ভরসা সংখ্যালঘু ভোটই৷ এদিনের জমায়েতে নাম না করেই বিজেপিকে বেঁধেন মুখ্যমন্ত্রী৷ বলেন, ‘‘কখনও কখনও রোদের তেজ তীব্র হয়৷ কিন্তু পরে তা ফিকে হয়ে যায়৷’’

সংখ্যালঘুদের উদ্দেশ্যে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শ, ‘‘অনেকেই অনেক কিছু বলবেন৷ কিন্তু গায়ে মাখবেন না৷ আমরা একসঙ্গে ছিলাম, আছি, থাকবে৷ সমস্যা হলে একযোগে রুখবো৷’’ তাঁর প্রত্যয়ী সুর তৃণমূলকে আঘাত করলে প্রত্যাঘাত আসবেই৷ এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেই খুশির ঈদের জমায়েতে ছিলেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মন্ত্রী জাভেদ খান, বিধায়ক ইদ্রিস আলিরা৷