কলকাতা: রবিবার সন্ধ্যেয় কলকাতার পুলিশ কমিশনারের বাড়িতে যায় সিবিআই গোয়েন্দারা৷ আগাম অনুমতি নেই দেখা করা যাবে না৷ ফলে তাদের আটকে দেয় পুলিশ৷ চরমে ওঠে সিবিআইয়ের সঙ্গে পুলিশের সংঘাত৷ পরে পুলিশ কমিশনারের বাড়ির সামনে থেকে সিবিআই অফিসারদের তুলে নিয়ে যায় পুলিশ৷

এরপরেই রাজীব কুমারের বাড়িতে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ প্রায় দুর্গে পরিণত করা হয় রাজীব কুমারের বাড়ি৷ মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পরিমাণে পুলিশ বাহিনী৷ নো এন্ট্রি করে দেওয়া হয়েছে গোটা লাউডন স্ট্রিট৷রাজীব কুমারের বাড়িতে লালবাজারের অন্যান্য পুলিশ আধিকারিকরা৷ সংবাদমাধ্যমকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে সিপির বাড়ির সামনে থেকে৷

কলকাতার পুলিশ কমিশনারের সামনে ব্যারিকেড করে দেওয়া হয়েছে৷ জানা গিয়েছে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করতে বৈঠক বসেছে পুলিশ কমিশনারের বাড়িতে৷রাজীব কুমারের বাড়িতে পৌঁছেছেন এডিজি আইনশৃঙ্খলা৷ পরে সিপির বাড়িতে যান কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি বৈঠক বসে সিপির বাড়িতে৷

আরও পড়ুন : পুলিশ কমিশনারের বাড়ির সামনে থেকে আটক সিবিআই

এদিকে, শনিবার থেকে রাজীব কুমারকে নিয়ে নানা রকমের খবর ঘোরাফেরা করছিল সংবাদমাধ্যমে। এরপর রবিবার সকালেই মুখ্যমন্ত্রী ট্যুইট করে বলেন, ২৪ ঘণ্টাই কাজ করে চলেছেন রাজীব কুমার। সম্প্রতি তিনি একদিনের ছুটি নিয়েছিলেন। আর তাতেই মিথ্যা ছড়াতে শুরু করেছে। পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের প্রশংসাও করেন তিনি। বলেন, ‘বিশ্বের কয়েকজন সেরা অফিসারের মধ্যে রাজীব কুমার একজন। ওনার সততা ও সাহস নিয়ে কোনও প্রশ্ন হবে না।’

‘ইন্ডিয়া টুডে’-তে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, সারদা ও রোজভ্যালি চিটফান্ড কাণ্ড নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে চলেছেন কলকাতা পুলিশের কমিশনার রাজীব কুমার। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘সন্তোষজনক জবাব’ না পেলে তাঁকে গ্রেফতারও করা হতে পারে। চিটফান্ড কেলেঙ্কারীর মামলায় রাজ্যের পক্ষ থেকে যে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট (স্পেশ্যাল ইনভেস্টিগেশন টিম) গঠন করা হয়েছিল, রাজীব কুমার ছিলেন তা নেতৃত্বে। সেই তদন্ত চলাকালীন বহু গুরুত্বপূর্ণ নথি কীভাবে অদৃশ্য হয়ে গেল তা নিয়েও সিবিআই তাঁকে জেরা করতে পারে বলে জল্পনা চলছিল৷ তারপরেই বিকেলে সিপির বাড়িতে যান সিবিআই গোয়েন্দারা৷