স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলতে হবে টালা ব্রিজ। এমনই রিপোর্ট জমা পড়েছে নবান্নে। যদিও দুর্গাপুজোর আগেই ভারী যানবাহন বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। টালা ব্রিজের উপর দিয়ে যে সব বাস চলাচল করতো, সেই বাস ঘুর পথে চলছে। তার জন্য আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে বাস মিনিবাস মালিকেরা।

জয়েন্ট কাউন্সিলের যুগ্ম সম্পাদক তপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, টালা ব্রিজ বন্ধের ফলে ঘুরপথে বাস বাস চালাতে গিয়ে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন মালিকেরা। বাস চালাতে গিয়ে প্রতিদিন যে পরিমাণ টাকা খরচ হচ্ছে, সেই তুলনায় আয় হচ্ছে না। এছাড়া প্রশাসনের নির্দেশে রুট পরিবর্তন করায় যাত্রী সংখ্যা অনেক কমে গিয়েছে।

তাই বাধ্য হয়ে তিনটি রুটের বাস বন্ধ করে দিতে হয়েছে। সেগুলো হল, ৩৪বি , ৩৪সি এবং ২০১ রুটের বাস। মূলত ওই বাসগুলো ডানলপ থেকে টালা ব্রিজ হয়ে ধর্মতলা যেত। বর্তমানে শতাধিক বাস বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ভবিষ্যতে আরও অনেক বাস বন্ধ হওয়ার পথে। এর ফলে যেমন বন্ধ বাস- মিনিবাসের চালক, কন্ডাকটর এবং মালিকেরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তেমনি বাস বন্ধ থাকায় দুর্ভোগের শিকার সাধারণ যাত্রীরাও।

সূত্রের খবর, টালা ব্রিজ নিয়ে গত বুধবার নবান্নে মুখ্যসচিব রাজীব সিনহার কাছে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছেন ব্রিজ বিশেষজ্ঞ ভি কে রায়না । পঞ্চমীর দিন টালা ব্রিজ পরিদর্শন করেন মুম্বইয়ের একটি বিশেষজ্ঞ সংস্থা। ওই সংস্থার পক্ষে ব্রিজের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন ভি কে রায়না ও তাঁর দল।

ব্রিজ নিয়ে নবান্নে লিখিত রিপোর্ট জমা পরার পরই সিদ্ধান্ত হয়েছিল, গত শনিবার ব্রিজ নিয়ে বৈঠকে বসার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর । সব পক্ষের উপস্থিতিতে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা ছিল, টালা ব্রিজটি রেখেই সংস্কার করা হবে, নাকি ভেঙে ফেলা হবে। কিন্তু সেই বৈঠক আপাতত স্থগিত রয়েছে।

পুজোর আগ থেকেই রাইটসের রিপোর্টের ভিত্তিতে টালা ব্রিজের উপর দিয়ে বন্ধ রয়েছে বাস চলাচল। তার ফলে ওই বাসগুলোর পথ পরিবর্তন করা হয়েছে। এই ব্রিজের উপর দিয়ে প্রায় ৫০ টি রুটের বাস চলাচল করত। এখন সেগুলিকে বিকল্প পথ দিয়ে যেতে হচ্ছে।

কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, জনসাধারণের সুরক্ষা এবং নিরাপত্তার স্বার্থে টালা ব্রিজের উপর গাড়ি চলাচলের ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ কার্যকর করতে হয়েছে। বিধিনিষেধ অনুযায়ী পণ্যবাহী গাড়ি এবং বাস ও মিনিবাস টালা ব্রিজের উপর দিয়ে চলবে না। চলবে শুধু ছোট গাড়ি।তবে তাদেরও গতি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। টালা ব্রিজের উপর দিয়ে যে বাস ও মিনিবাসগুলি চলাচল করত, সেগুলির পরিবর্তিত রুট সংক্রান্ত সরকারি বিজ্ঞপ্তি রয়েছে পরিবহণ দফতরের ওয়েবসাইটে। এছাড়া কলকাতা পুলিশের ফেসবুক পেজে।