বিয়ারিটজ: এর আগেও তিনি দাবি করেছিলেন জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি ভুয়ো। পুরোটাই চিন তৈরি করেছে। একদিকে বিশ্বের ফুসফুস পুড়ছে তাই পৃথিবীর নানাদিকে প্রতিবাদ চলছে। হয়ত আমাজনের দাবানল বা অতিরিক্ত কার্বন-ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কোনোটাই তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি, ফলস্বরূপ জি৭ সামিটের জলবায়ু পরিবর্তন বা ক্লাইমেট চেঞ্জ সেশনের আলোচনাতে উপস্থিত ছিলেন না ট্রাম্প। তাই একটি চেয়ার খালি রেখেই বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধারি সাত দেশ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে এই বিষয়গুলিকে নিয়ে তর্কবিতর্ক ও আলোচনা সারলেন।

পূর্ব নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সোমবারের এই বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা ছিল কিন্তু তিনি ছিলেন না। জি৭ সামিটে এইদিনের আলোচ্য বিষয়গুলি ছিল জলবায়ু, পরিবেশের ভারসাম্য ও বিভিন্ন মহাসাগর। ফ্রান্সের প্রেসিডেণ্ট ও জি৭ সামিটের উদ্যোক্তা ইমান্যুয়েল ম্যাক্রো বলেন, “ট্রাম্পের পরিবর্তে সেখানে তাঁর সহযোগিরা উপস্থিত ছিলেন।”

ডোনাল্ড ট্রাম্প বরাবরি জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন, সোজা কথায় অবিশ্বাস নাস্তিকতায় পরিণত হয়েছে। একদা তিনি দাবি করেছিলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি পুরোটাই ভুয়ো যা চিনাদের তৈরি। এই বিশ্বাসের জেরেই ২০১৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে প্যারিস ক্লাইমেট অ্যাকর্ড থেকে সরিয়ে রাখেন, যার ফলে কার্বন-ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমানোর জন্য বিশ্বের অনেক যৌথ প্রচেষ্টা অনেকাংশে ব্যর্থ হয়।

যেই সময় ক্লাইমেট চেঞ্জ সেশন চলছিল সেইসময় তিনি ওয়ান-টু-ওয়ান বৈঠকে ব্যস্ত ছিলেন। এরপরই মোদীর সঙ্গে হাতে হাত রেখে মসকরায় বেশ খোশমেজাজেই ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেণ্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সময় তাঁর অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি বলেন, এটাই আমার আগামি পরিকল্পনা। আমি নির্মল বাতাস ও প্রিস্কার জল চাই। কিন্তু তিনি তা কখনই প্রকাশ্যে আনেন না।

ট্রাম্পের অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে ম্যাক্রো বলেন, “ট্রাম্পকে ক্লাইমেট অ্যাকর্ডে পুনঃরায় যোগদানের জন্য রাজি করানোর কোন লক্ষ্যই ছিল না, আপনি অতীতকে পুনরায় লিখতে পারেননা।” কিন্তু আমাদের মধ্যে এর আগে এই বিষয়ে ইতিবাচক কথা হয়েছে। আমরা আমাজনের আগুন নিয়ে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেছি। আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় ওই অঞ্চলে আবার সবুজায়নের ভাবনা রয়েছে।