মুম্বই: বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় আমফানের ধাক্কা এখনও সামলে ওঠা সম্ভব হয়নি। ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বহু। মাস ঘুরতে না ঘুরতেই ভারতের দিকে এগিয়ে আসছে আরও একটি সাইক্লোন। ঘূর্ণিঝড় নিসর্গ কোন বিপদের মুখে ঠেলে দেবে, সেই আশঙ্কাতেই প্রহর গুনছে দেশবাসী।

বঙ্গোপসাগরে এমন ঝড় উঠেছে বহুবার। কিন্তু আরব সাগর এভাবে উত্তাল হতে অভ্যস্ত নয়। বাণিজ্য নগরী মুম্বাইতে ও সাম্প্রতিক কালে এমন সাইক্লোন দেখা যায়নি। কিন্তু আরব সাগরে কেন এভাবে সাইক্লোন বাড়ছে সেই তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন আবহাওয়াবিদরা।‌

কিছুদিন আগে পর্যন্তও সাইক্লোনের পূর্বাভাস পাওয়া যায়নি। আবহবিদেরা দেখেছিলেন আরব সাগরের একটি নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে, যার জন্য বর্ষা এগিয়ে আসতে পারে। কিন্তু ২৮ মে পর্যন্তও সাইক্লোনের কোনও পূর্বাভাস ছিল না। তাহলে আচমকা আরব সাগরে কেন এমন সাইক্লোন?

বঙ্গোপসাগরে বছরের তিন-চারটি বা তারও বেশি সাইক্লোন তৈরি হয়। সেখানে আরব সাগরে খুব বেশি হলে বছরে একটা। ১৮৯১ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত মৌসম ভবনের রেকর্ড বলছে বঙ্গোপসাগরে হয়েছে ৫২০ টি সাইক্লোন , আরব সাগরের মাত্র ১২৬ টি।

অ্যাটমোস্ফেরিক সায়েন্টিস্ট হিরোয়ুকি মুরাকামি সাইক্লোনের কারণ সংক্রান্ত একটি গবেষণা চালিয়েছেন। আর সেখানে দেখা গিয়েছে বেশিরভাগ সাইক্লোন আরব সাগরে তৈরি হচ্ছে আবহাওয়া পরিবর্তনের জন্য। মৌসম ভবনও গত জানুয়ারিতে এক বিবৃতিতে গিয়ে কথা স্বীকার করেছে।

‌রাষ্ট্রসঙ্ঘের জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত ইন্টার গভর্মেন্টাল প্যানেল দেখেছে যে আরব সাগরে তাপমাত্রা ক্রমশ বাড়ছে। সমুদ্রের তাপমাত্রা ৩০ থেকে 33 ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে গেলে সাইক্লোন তৈরি হয়। বঙ্গোপসাগরে আমফানের আগে ঠিক এরকমই তাপমাত্রা ছিল, আর নিসর্গের আগে আরব সাগরের তাপমাত্রাও পৌঁছেছে ৩০ ডিগ্রির আশেপাশে।

বুধবার দুপুর ১ টা নাগাদ আছড়ে পড়বে এই সাইক্লোন। আলিবাগের দক্ষিণ দিক দিয়ে এটি যাবে বলে জানাচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা।

উপকূলে আছড়ে পড়ার পর গতি হবে সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটার। এটি লেভেল ২ এর ঘূর্ণিঝড় বলে জানাচ্ছে হাওয়া অফিস। মঙ্গলবার দুপুরে আরব সাগরে জন্ম নেয় নিসর্গ।

করোনা সংক্রমণে মহারাষ্ট্র এমনিতেই কার্যত বিধ্বস্ত। ওই রাজ্যে ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত। তার উপরে নতুন বিপদ নিয়ে হাজির ঘূর্ণিঝড়। মৌসম ভবনের খবর, প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে ওই রাজ্যে আছড়ে পড়তে পারে নিসর্গ।

মহারাষ্ট্র ও গুজরাতে ৩০টি এনডিআরএফ দল মোতায়েন করা হয়েছে। উপকূলে প্রস্তুত উপকূলরক্ষী বাহিনী। বায়ুসেনা, নৌসেনাও সতর্ক। গুজরাতের দু’টি জেলার ২০ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরানো হয়েছে। সরানো হচ্ছে মহারাষ্ট্রের নিচু এলাকা ও মুম্বইয়ের বস্তিবাসীদেরও। মহারাষ্ট্রে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে ‘নন-কোভিড’ হাসপাতালগুলিকে।

ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কতা পেয়ে প্রস্তুতি শুরু করেছে মহারাষ্ট্র ও গুজরাত সরকার। উপকূল এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরানো হচ্ছে। মঙ্গলবার মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে জানান, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ)-র ১৬টি দল মোতায়েন করা হয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলার প্রস্তুতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। পরে একটি টুইট করে ঝড় আছড়ে পড়তে পারে, এমন সব এলাকার বাসিন্দাদের সব রকমের সাবধানতা অবলম্বন করতে বলেন তিনি। এনডিআরএফের ডিজি সত্যনারায়ণ প্রধান জানান, ঝড়ের সম্ভাব্য গতিবেগ ততটা ভয়ঙ্কর না-হলেও বাসিন্দাদের সরিয়ে আনা এবং উদ্ধারের প্রস্তুতিতে কোনও রকম খামতি রাখা হচ্ছে না।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প